সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বৃত্তের বাইরে… | অনন্তের পথে

আগের পর্ব: Review | সূচীপত্র দেখুন

প্রায় পাঁচ বছর আগে বৃত্তের বাইরে প্রথম পা ফেলেছিলাম। কিন্তু কে জানত যে, সেটা ছিল এক বৃত্ত থেকে আরেক বৃত্তের মাঝে গিয়ে পড়া?


সমাজের আর দশটা মানুষের মতই দেখাদেখি ধর্মপালন করে বড় হয়েছি। ধর্ম-অধর্ম নিয়ে মাথা ঘামাইনি খুব একটা। বন্ধু-বান্ধব, সমাজ-রাজনীতি-পরিবার, আর আমার কম্পিউটার সায়েন্সের যত বই – এই ছিল আমার জগত। ২০১২ সালের শেষাশেষি। আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুটি জানালো, তার প্রিয় বন্ধুটি নাস্তিক হয়ে গিয়েছে। সে ইসলামকে কটাক্ষ করে নানান মন্দ কথা ফেইসবুকে লিখছে; আমি যেন তার কিছু জবাব দিই।

“ইসলামকে নিয়ে ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপ? দাঁড়া, মজা দেখাচ্ছি।” তারপর ঢুকলাম সেই ছেলের ফেইসবুক প্রোফাইলে। বিভিন্ন নাস্তিক্যবাদী কথাবার্তা পোস্ট করা সেখানে। কিন্তু ঐ মাত্রার “ইন্টেলেকচুয়াল নাস্তিকতা” তো ওর নিজের ব্রেইন থেকে বের হবার কথা না; তাহলে কপি-পেস্টের উৎস কোথায়? উৎস খুঁজতে গিয়ে পেলাম সন্ধান পেলাম বাঙালী নাস্তিকদের ধর্মগ্রন্থের, শুরু করলাম আরজ আলী মাতুব্বরের “সত্যের সন্ধানের” যুক্তিখণ্ডন। “নাস্তিকতার যুক্তিখণ্ডন” নামে ফেইসবুক পেইজ খুললাম একটা, আর যুক্তিখণ্ডনগুলো সেখানে সিরিজ আকারে পাবলিশ করতে শুরু করলাম।

তারপর একদিন সেই সিরিজের শেষটায় গিয়ে লিখলাম: “এভাবে নাস্তিকদের সকল প্রশ্নের ধরে ধরে জবাব দেয়া সঠিক পদ্ধতি নয়। বরং যুক্তি দিয়ে স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমাণ করাটাই হলো সঠিক পদ্ধতি।” সেটার সূত্র ধরেই লেখা শুরু করলাম নতুন সিরিজ: “স্রষ্টাভাবনা”। পেইজের নাম বদলে দিলাম: স্রষ্টাভাবনা।

এই সিরিজটা লিখতে গিয়েই আমি প্রথম পা ফেললাম বৃত্তের বাইরে। নিজের মনে যুদ্ধ করলাম নিজের সাথেই: কী করছি আমি? ফেইসবুকে তো বলে দিলাম যে “নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে স্রষ্টাভাবনা” করা হবে। কিন্তু আসলেই কি আমি নিরপেক্ষ? নাকি মনে মনে বাপ-দাদার ধর্মকে প্রতিষ্ঠা করার নিয়তে লিখছি, আর সেটার নাম দিচ্ছি “নিরপেক্ষ স্রষ্টাভাবনা”?

যুক্তি ও দর্শনের কিছু ব্যাকগ্রাউন্ড আছে আমার, পারিবারিকভাবে পাওয়া। ‘খাবার টেবিল’ কী জিনিস তা জানতাম না, তবে মায়ের কোল থেকে নেমে খাবার পাটিতে বসে খাওয়া শুরু করেছি যখন থেকে, তখন থেকেই সেই ‘খাবার টেবিলে’ বসে শিখেছি যুক্তি, দর্শন, ভাষার জাদু, সাহিত্যে খেলা, আর সাংবাদিকতার যত মারপ্যাঁচ। তাই যুক্তি দিয়ে আরজ আলীকে খণ্ডন করা কিংবা “যুক্তি ও দর্শনের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ স্রষ্টাভাবনা” সিরিজ লেখাটাও আমার জন্যে খুব সহজ ব্যাপার। কিন্তু আমার বিবেক কাজটাকে কঠিন করে দিল। “যেহেতু একটা ‘নিরপেক্ষ’ মন কিভাবে স্রষ্টাভাবনা করে সেটা লিখতে চাইছি, তাহলে তো সত্যিই আমার নিজের মনকে নিরপেক্ষ করতে হবে, অতএব, মুসলিম হিসেবে চিন্তা করলে চলবে না, লেখার স্বার্থে হলেও নিজের মন থেকে সমস্ত ধর্ম-অধর্মের চিন্তা দূরে সরিয়ে নিজেকে একদম নিউট্রাল করে ফেলতে হবে, তারপর পথ চলতে চলতে যে সিদ্ধান্ত আসবে, সেটাই মেনে নিতে হবে – এমনকি নিজের প্রচলিত ধর্মবিশ্বাসের বিপরীত হলেও!”

নিজের সাথে এই ওয়াদা করে বৃত্তের বাইরে প্রথম পদক্ষেপ নিলাম। তৈরী হলো সিরিজ: স্রষ্টাভাবনা। কিন্তু কে জানত, সেটা ছিল এক বৃত্ত থেকে আরেক বৃত্তে আসা? তবে একটা লাভ হলো আমার। সিরিজটা লিখতে গিয়ে যুক্তি ও দর্শনের এমনসব মৌলিক বিষয় চর্চা হলো, যা ইসলামের জগতে অগ্রসর হবার পথে সাহায্য করল। কম্পিউটার সায়েন্সের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে ইসলামের মৌলিক বিষয়াবলী নিয়ে পড়াশুনা শুরু করলাম। যুক্তি, দর্শন ও স্রষ্টাভাবনা সিরিজ – এই তিনের সাহায্যে লিখলাম নতুন সিরিজ: “কুরআন কি স্রষ্টার গ্রন্থ?”[QR],



সেখানে যুক্তি ও দর্শনের বিচারে নির্ণয় করলাম “ঐশী কিতাবের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য”।[QR],



এরপর আর্টিকেল লিখলাম “নবী চেনার উপায়”[QR] প্রসঙ্গে।



এগুলি এখনও ইন্টারনেটে আমার ব্লগ ও ফেইসবুক পেইজে আছে। আর এসব চর্চা করতে গিয়ে “ইসলামী জ্ঞানচর্চার সঠিক পদ্ধতি”[QR],



নিয়েও পড়াশুনা করলাম, যেটা জ্ঞানতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।

যুক্তি, দর্শন, জ্ঞানতত্ত্ব – ডুবে যেতে লাগলাম বুদ্ধিবৃত্তিক ধর্মচর্চার ভিতরে। আমি দেখলাম, দশ বছর মাদ্রাসায় পড়েও যে প্রশ্নের জবাব মানুষ দিতে পারে না, আমি সেটার অকাট্য জবাব দিতে পারি। নাস্তিকদের ফ্যালাসির প্রাসাদ আমি ধ্বসিয়ে দিতে পারি মুহুর্তে। আস্তিক-নাস্তিক যে কাউকে মৌলিক বিষয়ে প্রশ্ন করে স্তম্ভিত করে দিতে পারি। যুক্তিতে আমি দুর্দমনীয়, সূক্ষ্ম। কিন্তু –

কিন্তু দিনশেষে কী এক অসীম শূন্যতা! মনে হলো, আমি যেখানে ছিলাম, সেখানেই আছি। আগে ‘বিশ্বাস’ করতাম ইসলাম সত্য, আর এখন ‘জানি’ ইসলাম সত্য। মাঝখান দিয়ে লাভ হলো এই যে, নাস্তিকতার যুক্তিখণ্ডন করে মুসলিম সমাজে বাহবা পেলাম, কিন্তু ইসলামের ভিতরে যখন সেই একই যুক্তি ও দর্শন প্রয়োগ করে সত্য কথাগুলি বললাম, তখন বন্ধু হারালাম আমি! মাযহাবী ও দলীয় গোঁড়ামির কারণে প্রাণপ্রিয় “মুসলিম ভাইয়েরাও” দূর হয়ে গেল। সেইসাথে অন্ধবিশ্বাসী উগ্র ধার্মিকদের নানারকম বিরূপ আচরণ, হুমকি-ধমকি তো আছেই। দিনশেষে নিজেকে বুঝ দিই– আমি সত্যের সাথে আছি, আর আল্লাহত সত্যকেই আঁকড়ে ধরতে বলেছেন!

কিন্তু এই বুঝ দেয়াটাকেও একসময় আত্মপ্রতারণা মনে হতে লাগল। বারবারই মনে হতে লাগল - “আমার কী লাভ!” কী লাভ এসব ধর্মীয় তর্ক বিতর্ক করে? ব্রেইনকে সুখ দেয়া? “আমিই সঠিক” - এর আত্মতৃপ্তি লাভ করা? আর এসব করতে গিয়ে মানুষে-মানুষে অকারণ সম্পর্ক নষ্ট করা? আমার কী লাভ! ততদিনে আমার ভিতরে দ্বৈত সত্তা কাজ করতে শুরু করেছে। আমার ভিতরেই কে যেন বলে, সত্যপন্থী হও। আবার খানিক পরে অন্য কেউ বলে, এসব করে কী লাভ! প্রথমজনকে আমি জিজ্ঞাসা করি, কেন সত্যপন্থী হতেই হবে? সে বলে, “সত্য তিতা হলেও গ্রহণ করতে হবে, কেননা এটাই বিচারবুদ্ধি ও বিবেকের দাবী।” আমি তার কথা মেনে নেই। তারপর দ্বিতীয়জনের দিকে তাকাই। সে কোনো উত্তর দেয় না। শুধু বারবার প্রশ্ন করে ক্লান্ত করে তোলে আমাকে: “তোমার কী লাভ!”

এভাবেই চলছিলাম। এর মাঝে একদিন একটা ব্যাপার ঘটলো। অন্যান্য দিনের মতই আমার “উচ্চ ইন্টেলেকচুয়াল যোগ্যতার আত্মতৃপ্তি” মাথায় নিয়ে ঘুমাচ্ছিলাম। ঘুমটা ভেঙে গেল। আমার কখনো মাঝরাতে ঘুম ভাঙে না। ঘুম ভাঙে অ্যালার্মের শব্দে, ঘুমঘুম চোখে উঠে ফজরের নামাজ পড়ে আবার ঘুমাই, নেক্সট অ্যালার্মটা থাকে ইউনিভার্সিটিতে যাবার জন্য। মাঝরাতে কখনো ঘুম ভাঙে না। কিন্তু ঘুমটা ভেঙে গেল। কেন ঘুম ভাঙলো? আমার ব্রেইন সে ব্যাপারে বেখবর। তখন আমি দুটো কাজ করতে পারতাম। আমি আবার ঘুমিয়ে যেতে পারতাম; কিন্তু ঘুমটা এমনভাবেই ভেঙেছে যেন সব ঘুম ঘুমানো হয়ে গিয়েছে। তাই আমি দ্বিতীয় কাজটা করলাম। আমার সামনে দরজা খুলে গেল। চোখ বন্ধ করে আমি এমন কিছু দেখলাম, যা চোখ খুললে দেখা যায় না। পরদিন আবারো ঘুম ভাঙলো। পরদিন আবার, আবার…। আমি বুঝলাম, অন্ধকারে মানুষ সব দেখতে পায়, কারণ তখন আলোর বাধা থাকে না।

আমি ইউনিভার্সিটিতে যাই, ক্লাস করি, আড্ডা দিই। সবাই যা দেখে, তা আমিও দেখি। সেইসাথে আমি আরো কিছু দেখি। আমার ভালো লাগে। ধর্মীয় তর্কবিতর্ককে ছেলেখেলা মনে হয়। যুক্তি, দর্শন ও জ্ঞানতত্ত্বকেও খুব সাধারণ বিষয় বলে মনে হয়। সারাদিন আমি অপেক্ষায় থাকি: কখন রাত হবে, কখন ঘুমাব। তারপর ঘুমটা ভেঙে যাবে, আর আমি চোখ বন্ধ করে দেখব। একটা শিশু যেভাবে সোৎসাহে পৃথিবী দেখে, সেভাবে। অন্ধকারে নৈঃশব্দের প্রতিটা মুহুর্তে আমি এতকিছু দেখছি, শুনছি, অনুভব করছি – আমার গোটা ব্রেইনকে ব্যবহার করলেও যা পাওয়া সম্ভব ছিল না। যে দুয়ার খুলে গেছে আমার সামনে, তা আমাকে নেশার মত টানে। এই নেশাকে আমি উপেক্ষা করতে পারি না। আলোর পোকা যেভাবে আগুনের দিকে ছুটে যায়, তেমনি আমার গোটা অস্তিত্বকে সে টানে। আমি না করতে পারি না।

সে আমায় ডাকে। আমি তার ডাকে সাড়া দিই। সে আমায় ভালোবাসে, আমি ভালোবাসি তাকে। প্রবল ভালোবাসায় আপন সত্তাকে হারিয়ে ফেলি। সে আমাকে তার মাঝে নিয়ে যায়। সেখানে আমি, তুমি, তোমরা বলে কিছু নেই। আমিত্বের বিসর্জনে নবজীবন লাভ করি। মনে হয়, ঐটাই ‘আমি’, এইটা ‘আমি’ নই। সে আমাকে নিয়ে খেলে। দূর থেকে আশা জাগায়। সেই হাতছানিতে হাঁটতে হাঁটতে মনে হয়, এই বুঝি দরজাটা ছুঁয়ে ফেলব, ওপারে কী প্রচণ্ড আলো! ঠিক তখনি সূর্যটা জেগে ওঠে। অন্ধকারে জেগে উঠি আমি। কী ঘটেছিলো শেষরাতে? আমার মস্তিষ্ক সে ব্যাপারে বেখবর। শুরু হয় সূর্যের আলোয় দীর্ঘ ক্লান্তিকর অন্ধকার যাত্রা। রাত হলে আমি আবার জেগে উঠি। সে আমায় ডাকে। আরেকটু হলেই বুঝি আলোর দরজাটা ছুঁয়ে ফেলব…


তারপর একদিন…

প্রচণ্ড আলোর প্রথম ধাক্কাটা সামলে নেবার পর বুঝতে পারলাম, বৃত্তের বাইরে প্রথম পদক্ষেপ হয়েছে আমার।

_______________________________


যুক্তি | দর্শন | ভালবাসা

বৃত্তের বাইরে…



মন্তব্যসমূহ

সর্বাধিক জনপ্রিয়

স্রষ্টাভাবনা

প্রথম ভাগ: দার্শনিকের স্রষ্টাভাবনা | | পর্ব-১: উৎসের সন্ধানে উৎসের সন্ধান করা মানুষের জন্মগত বৈশিষ্ট্য। মানুষ তার আশেপাশের জিনিসের উৎস জানতে চায়। কোথাও পিঁপড়ার লাইন দেখলে সেই লাইন ধরে এগিয়ে গিয়ে পিঁপড়ার বাসা খুঁজে বের করে। নাকে সুঘ্রাণ ভেসে এলে তার উৎস খোঁজে। অপরিচিত কোনো উদ্ভিদ, প্রাণী কিংবা যেকোনো অচেনা জিনিস দেখলে চিন্তা করে – কোথা থেকে এলো? কোথাও কোনো সুন্দর আর্টওয়ার্ক দেখলে অচেনা শিল্পীর প্রশংসা করে। আকাশের বজ্রপাত, বৃষ্টি, রংধনু কিংবা সাগরতলের অচেনা জগৎ নিয়েও মানুষ চিন্তা করে। এমনকি ছোট শিশু, যে হয়তো কথাই বলতে শেখেনি, সে-ও কোনো শব্দ শুনলে তার উৎসের দিকে মাথা ঘুরায়। অর্থাৎ, মানুষ জন্মগতভাবেই কৌতুহলপ্রবণ।

একটা বাচ্চা জ্ঞান হবার পর চিন্তা করে – আমি কোথা থেকে এলাম? আরো বড় হবার পর চিন্তা করে – আমার মা কোথা থেকে এলো? এমনি করে একসময় ভাবে, পৃথিবীর প্রথম মা ও প্রথম বাবা, অর্থাৎ আদি পিতা-মাতা কিভাবে সৃষ্টি হয়েছিল? চারিদিকের গাছপালা, প্রকৃতি, পশুপাখি, গ্রহ-নক্ষত্র-মহাবিশ্ব – এগুলিরই বা সৃষ্টি হয়েছে কিভাবে? ইত্যাদি নানান প্রশ্ন উৎসুক মনে খেলে যায়।

তখনই শুরু হয় সমস্যা। নিরপেক্ষ মানব মনকে চার…

ব্যাকট্র্যাকিং | দার্শনিকের স্রষ্টাভাবনা

আগের পর্ব: উৎসের সন্ধানে | সূচীপত্র দেখুন


আদি পিতা-মাতাকে কে তৈরী করল? কোন সে পুতুল কারিগর? একজন ভাস্কর যেভাবে পাথর কুঁদে মানুষের মূর্তি তৈরী করেন, কিংবা মাটি দিয়ে তৈরী করেন পুতুল! এই প্রশ্নের উত্তর আমরা পাই ব্যাকট্র্যাকিং পদ্ধতিতে।
মানুষের ব্যাকট্র্যাকিং
আমাকে জন্ম দিয়েছেন (সৃষ্টি করেছেন) আমার মা। আর আমার মা-কে জন্ম দিয়েছেন আমার নানী, কিন্তু তাঁরও তো মা ছিল! আমরা যদি এভাবে পিছনের দিকে যেতে শুরু করি, তাহলে:
আমার মা, তার মা, তার মা… এভাবে করে একদম শুরুতে অবশ্যই এমন এক মা থাকতে হবে, যার আর কোনো মা নাই। সে-ই পৃথিবীর প্রথম মা। এই পদ্ধতিটাকে বলা হয় ব্যাকট্র্যাকিং (backtracking)। অর্থাৎ, কোনোকিছুর পিছনের কারণকে খুঁজে বের করা।
স্রষ্টার ব্যাকট্র্যাকিং
আচ্ছা, সেই আদি মাতার সৃষ্টি হলো কিভাবে? তার নিশ্চয়ই কোনো মাতৃগর্ভে জন্ম হয়নি, কারণ সে-ই তো প্রথম মা, আদি মাতা! অতএব, নিশ্চয়ই কোনো পুতুল কারিগর নিজ হাতে গড়েছিলেন মানবজাতির আদি মাতাকে! তো, সেই আদি মাতাকে যিনি সৃষ্টি করলেন, সেই স্রষ্টাকেই আমরা বলছি “মানুষের স্রষ্টা”।
এখন কেউ জিজ্ঞাসা করতে পারে, “মানুষের স্রষ্টাকে” সৃষ্টি করলো কে? তখন উত্তরে বলতে হয়: আচ্…

কুরআনের দর্শন | দার্শনিকের কুরআন যাত্রা

আগের পর্ব: সূরা ইখলাস ও নিরপেক্ষ মন | সূচীপত্র দেখুন

কুরআনের দর্শন (philosophy) কেমন? আসলে একটি ছোট লেখায় কখনোই গোটা কুরআনের দর্শন পুরোপুরি তুলে ধরা সম্ভব না। কুরআনের যেকোনো ছাত্র একবাক্যে স্বীকার করবে যে, মৃত্যু পর্যন্ত একজন ছাত্রের “কুরআন যাত্রা” শেষ হয় না। তাই “কুরআনের দর্শন” শিরোনামের যেকোনো লেখাই অসম্পূর্ণ। এই লেখাও তার ব্যতিক্রম নয়। তবুও আমাদের আলোচনার সাথে প্রাসঙ্গিক কিছু বিষয়ে কুরআনের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার চেষ্টা করলাম।

অপরের বক্তব্য শুনতে হবে


فَبَشِّرْ عِبَادِي (١٧) الَّذِينَ يَسْتَمِعُونَ الْقَوْلَ فَيَتَّبِعُونَ أَحْسَنَهُ أُولَئِكَ الَّذِينَ هَدَاهُمُ اللَّهُ وَأُولَئِكَ هُمْ أُولُو الألْبَابِ (١٨)

“অতএব, (হে রাসূল!) সেই বান্দাদের সুসংবাদ দিন যারা বক্তব্য শোনে, অতঃপর তার মধ্য থেকে যা কিছু অধিকতর উত্তম তার অনুসরণ করে। এরাই হচ্ছে তারা যাদেরকে আল্লাহ সঠিক পথ দেখিয়েছেন এবং এরাই হচ্ছে প্রকৃত জ্ঞানবান।” (সূরা যুমার, ৩৯:১৭-১৮)

অর্থাৎ, কুরআনের দর্শন হলো মুক্ত আলোচনার দর্শন। সবার মতামত শুনতে হবে, তারপর সেগুলি যাচাই করতে হবে। যুক্তিবুদ্ধির মানদণ্ডে যেগুলি উত্তম বলে বিবেচিত হবে, সেগ…