সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সত্যের পথে… | দার্শনিকের স্রষ্টাভাবনা



হ্যাঁ, আমি সত্যকে জেনেছি। রাত্রির অন্ধকার চিরে ভোরের প্রথম শুভ্র রেখা যেভাবে দেখা দেয় আকাশে, তেমনিভাবে আমার খোদাকে চিনেছি। আমার স্রষ্টা, আমার পরম প্রভু।

কখনো ভোর দেখেছেন, ভোর? কিভাবে পরম প্রভু পৃথিবীটাকে জাগিয়ে তোলেন? সেটা শহুরে বারান্দায় গিয়েই দেখুন কি গ্রামের ছায়াঘেরা উঠান কিংবা সমুদ্রতটে – আজ থেকে ভোরগুলো আর আগের মতন হবে না। কারণ এতদিন ভোরগুলো ছিল “প্রকৃতির জেগে ওঠা”। কিন্তু আজ থেকে ভোরগুলো হলো পরম প্রভুর ডাকে সাড়া দিয়ে পৃথিবীর ঘুম ভাঙা। কারণ আমরা চিনে নিয়েছি পরম প্রভুকে। কী বিস্ময়কর!

প্রিয় পাঠক!

এ আপনারই দার্শনিক যাত্রা। এটা কোনো নিছক বই নয় যে, টানা কয়েক ঘন্টা পড়ে তারপর শেলফে তুলে রাখবেন! এটা আপনার-আমার দার্শনিক যাত্রা: মহান প্রভুর দিকে যাত্রা। একারণেই বারবার বলেছি, প্রয়োজনে সময় নিন, দুই-দশদিন ভাবুন, ধ্যান করুন…। আপনার এই দার্শনিক যাত্রায় যদি নিজেকে নিরপেক্ষ, অপ্রভাবিত রাখার স্বার্থে সমাজ থেকে দূরে গিয়ে দুটো দিন কাটিয়ে আসতে হয়, তবে তা-ই করুন! সাগরতীরে দাঁড়িয়ে, কিংবা নির্জন কোনো জায়গায় প্রকৃতির কোলে বসে কল্পনা করুন: আপনি একা! পৃথিবীতে আর কোনো মানুষ নেই, আপনাকে প্রভাবিত করার কেউ নেই, বিতর্ক করারও কেউ নেই – শুধু আপনি, আর চারিদিকে পরম প্রভুর সৃষ্টিজগত। তেমনি এক পরিবেশে যখন পাখির শব্দে ভোর হয়, আকাশের মেঘগুলো সরে সরে যায়, সাগরের ঢেউগুলো তীরে ভাঙে, নিয়ম করে ঘুম ভেঙে জেগে ওঠে পশুপাখি, বেরিয়ে পড়ে জীবিকার সন্ধানে – তখন –

তখন কি মনে হয় না যে, এ এক অদ্ভুত ছন্দ! কী চমৎকার এক হারমোনি! কী চমৎকার তার সুর! তখন কি সেই সুরের সাথে বিলীন হতে ইচ্ছে করে না? ব্যাকুলতা কি জাগে না, এই সুরের উৎস সন্ধানের? সুনিপুন গাণিতিক ছন্দের এই সৃষ্টিজগতের মাঝে নিজের পারফেক্ট স্থানটি খুঁজে নেবার ব্যাকুলতা কি জাগে না আপনার!

সত্যের পথে... | দার্শনিকের স্রষ্টাভাবনা





প্রতিটা জিনিসই তার মূলের দিকে ফিরে যায়। আর তাইতো যেই উৎস থেকে এসেছি, সেই পরম স্রষ্টা তাঁর নিদর্শন দিয়ে রেখেছেন আমার মাঝেই; যেন আমি তাঁর দিকে ফিরে যেতে পারি। “উৎসের সন্ধান করা মানুষের জন্মগত বৈশিষ্ট্য” – আর সেই উৎসের সন্ধানেই আজ এতদূর। কে জানে, যেতে হবে আরো কতদূর?

প্রিয় পাঠক!

আপনি-আমি এক মহান দার্শনিক যাত্রা শেষ করে নতুন এক দুয়ারে এসে উপস্থিত হয়েছি। এ এক নতুন ভোর। আজ থেকে প্রতিটা ভোরই আপনাকে পরম স্রষ্টার কথা স্মরণ করিয়ে দেবে। প্রকৃতির মনোমুগ্ধকর harmony – এই সৃষ্টিজগতের সুনিপুন নিয়ম আর ছন্দ – সবই প্রতি মুহুর্তে আপনাকে তাঁর ধ্যানে ধ্যানস্থ করবে: পরম প্রভুর দরবারে আপনাকে স্বাগতম!

আসুন না, এই ধর্ম-অধর্ম দলাদলির সমাজে থেকেও আপন হৃদ-মাঝারে অতি সংগোপনে লালন করি একটি নিরপেক্ষ, অপ্রভাবিত মুক্ত মনকে – যে আপন স্রষ্টার ধ্যানে মগ্ন! প্রিয় পাঠক! আপনি এতদূর আসতে পেরেছেন, কিন্তু যেতে যে হবে বহুদূর! বহু মানুষ আপনাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করবে, চেষ্টা করবে তাদের ধর্মের দিকে টানার; দলাদলি, মারামারি আর আস্তিক-নাস্তিক রেসলিং – এসবের দিকে টেনে নিয়ে আপনাকে আবারও বন্দী করে ফেলবে। কিন্তু আমার করজোড়ে অনুরোধ, তা হতে দেবেন না। মরিচা পড়া বিবেক-বুদ্ধি নিয়ে বহুদিন চলেছি, কিন্তু আজ মুক্ত মনের স্বাদ আস্বাদন করেছি – আর তাকে বন্দী হতে দেব না। সমাজের চাপিয়ে দেয়া আস্তিকতা-নাস্তিকতায় ব্রেইনওয়াশড হয়েছি বহুকাল – আর নয়।

অনুভব করুন, চিন্তা করুন, ধ্যানস্থ হোন। আপনার হৃদয় ও মস্তিষ্কে কোনো পরিবর্তন কি অনুভব করেন?

প্রিয় পাঠক,

আজ যে যাত্রা আপনি করছেন, আমি হয়ত সে যাত্রা একটা দিন আগে করেছি। কিন্তু এটা মানব জীবনের এক অবধারিত বিষয়। স্রষ্টাভাবনা তো সৃষ্টিরই কাজ! প্রতিটা মানুষের জীবনেই এমন একটা সময় আসে, যখন পড়াশুনা, বন্ধু-বান্ধব, ক্যারিয়ার ইত্যাদি যেকোনোকিছুর চেয়ে স্রষ্টাভাবনাটা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। তা সেটা যেই বয়সে যে কারণেই হোক না কেন। আফসোস! আর সেই দুর্বল সময়েই আমরা ব্রেইনওয়াশড হই: বিভিন্ন ধর্মের দ্বারা, কিংবা নাস্তিকতার দ্বারা! আফসোস! সেই সময়ে কেউ এসে হাতটি ধরে আমাদেরকে দার্শনিক যাত্রার সহযাত্রী করে না। বলে না যে: “ওরা তোমার ডানাটি বেঁধে ফেলেছে, এসো, আমি খুলে দিচ্ছি, এইযে দেখো, তোমার তো ডানা ছিলই জন্ম থেকে – এবার ওড়ো!”

প্রিয় পাঠক!

এমন সমাজের ভিতরে থেকে আমাদের দার্শনিক যাত্রাগুলো তাই হয় খুব একাকী, মনের মধ্যে লুকিয়ে, অতি সংগোপনে। আপনি হয়ত আজ একজন সহযাত্রী পেলেন। আপনি আমাকে চেনেন না, কিন্তু তবু জানেন যে, খোদামুখী মহান যাত্রায় আপনি-আমি একই পথের পথিক! কিন্তু আমার এমন কোনো সহযাত্রী ছিল না। এই পথটি আমাকে পাড়ি দিতে হয়েছে একাকী।

মুসলিম সমাজের ভিতরে মুসলিম পরিবারে জন্মে আমিতো অলরেডি প্রভাবিত! Biased mind! আমি করব সত্যের সন্ধানে দার্শনিক যাত্রা? যদি যাত্রা শেষের সত্যটি আমার প্রচলিত ধর্মের বিরুদ্ধে যায়? আমার সমাজ? আমার পরিবার? কী হবে তখন?
এতকিছু সত্ত্বেও আমি সাহস করে সে দার্শনিক যাত্রা শুরু করেছি। উৎসের সন্ধানে, সত্যের সন্ধানে। দিনের পর দিন ঘুমাইনি, সারারাত জেগে ভাবনা করেছি। অন্তর্দ্বন্দে ভুগেছি: সত্য উদঘাটনের যে মহান যাত্রা আমি শুরু করেছি, তাতে কি সমাজ ও পরিবারকে হারাতে হবে? নিজের সাথে বহু যুদ্ধ করে একদিকে সমাজ ও পরিবার, অপরদিকে সত্য – এই দুইয়ের মাঝে সত্যকেই পছন্দ করেছি। যদিও তখনও আমার যাত্রাই শুরু হয়নি – কিন্তু তবুও, “সত্য উদঘাটন করলে সেটাকেই আঁকড়ে ধরব” – নিজের সাথে এই ওয়াদা করাটা জরুরি। তাই আমি সমাজ ও পরিবারের ভিতরে থেকেও মনে মনে তাদেরকে ত্যাগ করেছি আগেই! মনে মনে সমাজ ও পরিবার-বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছি, যেই মুহুর্তে সত্যকে আঁকড়ে ধরার ওয়াদা করেছি তখন থেকেই। তা যাত্রা শেষে সত্য হিসেবে যা-ই পাই না কেন!

আমি অস্বীকার করব না, আমি বাইরে বাইরে নামাজ পড়েছি, সমাজের আর দশটা মানুষের মত করেই চলেছি। কিন্তু ভিতরে ভিতরে আমি এক প্রচণ্ড যুদ্ধ করে চলেছি নিজের সাথেই। আমি জানি, পাঠক, এমন মানুষের সংখ্যা এ সমাজে কম নয়। যারা সামাজিকভাবে ধর্ম চর্চা করে চলেছে, কিন্তু পরম প্রভুকে চেনার মত করে চেনে না! ধর্ম তাদের কাছে তাই অর্থহীন জিনিস বলে মনে হয়। তবু নিজের প্রয়োজনে সমাজের সাথে চলতে গিয়ে ধার্মিকতার বেশ ধরে থাকে! বহু, বহু মানুষ আছে এমন, আমি জানি!

এই অন্তর্দ্বন্দ্বে আপনি কোনো সঙ্গী পাবেন না। আপনি একাকী কেঁদে মরবেন, কিন্তু এমনকি সবচে’ ক্লোজ ফ্রেন্ডও আপনাকে ত্যাগ করবে, যদি তার ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন! সত্য-মিথ্যার দ্বন্দ্বে আপনি ব্যাকুল হয়ে সত্যকে খুঁজবেন, কিন্তু এই যাত্রা আপনার একার, শুধুই আপনার। মৃত্যুভার যেমন একাকী বইতে হয়, তেমনি যেন নিতান্তই একাকী বইবার এক বোঝা এটা: একাকী লড়বার যুদ্ধ।

তেমনি ব্যাকুল হয়ে খুঁজেছি স্রষ্টাকে! সমাজের চাপিয়ে দেয়া স্রষ্টাতো আমার ভিতরে নাই, তাকে তো আমি চিনি না, তাকে তো চেনে ঐ সমাজ। হারানো সন্তান ব্যাকুল হয়ে পিতা-মাতাকে আজীবন খুঁজে বেড়ায়; চিন্তা করতে পারেন, আপন স্রষ্টার জন্যে তাহলে কী পরিমাণ ব্যাকুলতা ও আবেগের ঢেউ আমাদের হৃদয়ের মাঝে আছে? সেই আবেগকে দূরে সরিয়ে রেখে “যুক্তির নির্মোহ বিশ্লেষণ” করেছি, চেষ্টা করেছি “দার্শনিকের স্রষ্টাভাবনা” করতে। কারণ যুক্তির জগতে আবেগের স্থান নেই, আর যুক্তিই নাকি দর্শনের প্রধানতম হাতিয়ার। কিন্তু তাই বলে বাঁধের ওপারে যে প্রবল বেগের ঢেউ কেবলই এসে জমছে, তাকে কি অস্বীকার করতে পারি? সারারাত স্রষ্টাভাবনা শেষে পাখির শব্দে যখন ভোর হয়, আলো-আঁধারির মিশেলে আকাশের নরম আলোর নিচে যখন আমি দাঁড়িয়ে থাকি, আমার চারিদিকের প্রকৃতিতে যখন কেবলই তাঁর মহিমা, তাঁর নিদর্শন, তাঁর ছন্দ, সুনিপুন হারমোনি: গোটা প্রকৃতি যেন আমাকে ধুয়ে মুছে শুদ্ধ করে তার ছন্দের সাথে একাকার করে ফেলছে – তখন –

তখন যখন দূর থেকে ভেসে এসেছে:
ক্বুল (বলো)!

হু আল্লাহু আহাদ (তিনিই আল্লাহ, একক)!

আল্লাহুস সামাদ (আল্লাহ অমুখাপেক্ষী)।

লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইয়ুলাদ (তিনি কাউকে জন্ম দেননি, এবং কেউ তাঁকে জন্ম দেয়নি),

ওয়ালাম ইয়াকুল্লাহু কুফুয়ান আহাদ (আর কোনোকিছুই তাঁর সাথে তুলনীয় নয়।

তখন আমার আর বাঁধ মানেনি। দার্শনিকের স্রষ্টাভাবনা, মুহাম্মদের হাতে সমর্পিত হয়েছে।

_______________________________

স্রষ্টা | অন্তর্দ্বন্দ্ব | ভালবাসা

স্রষ্টাভাবনা

মন্তব্যসমূহ

সর্বাধিক জনপ্রিয়

স্রষ্টাভাবনা

প্রথম ভাগ: দার্শনিকের স্রষ্টাভাবনা | | পর্ব-১: উৎসের সন্ধানে উৎসের সন্ধান করা মানুষের জন্মগত বৈশিষ্ট্য। মানুষ তার আশেপাশের জিনিসের উৎস জানতে চায়। কোথাও পিঁপড়ার লাইন দেখলে সেই লাইন ধরে এগিয়ে গিয়ে পিঁপড়ার বাসা খুঁজে বের করে। নাকে সুঘ্রাণ ভেসে এলে তার উৎস খোঁজে। অপরিচিত কোনো উদ্ভিদ, প্রাণী কিংবা যেকোনো অচেনা জিনিস দেখলে চিন্তা করে – কোথা থেকে এলো? কোথাও কোনো সুন্দর আর্টওয়ার্ক দেখলে অচেনা শিল্পীর প্রশংসা করে। আকাশের বজ্রপাত, বৃষ্টি, রংধনু কিংবা সাগরতলের অচেনা জগৎ নিয়েও মানুষ চিন্তা করে। এমনকি ছোট শিশু, যে হয়তো কথাই বলতে শেখেনি, সে-ও কোনো শব্দ শুনলে তার উৎসের দিকে মাথা ঘুরায়। অর্থাৎ, মানুষ জন্মগতভাবেই কৌতুহলপ্রবণ।

একটা বাচ্চা জ্ঞান হবার পর চিন্তা করে – আমি কোথা থেকে এলাম? আরো বড় হবার পর চিন্তা করে – আমার মা কোথা থেকে এলো? এমনি করে একসময় ভাবে, পৃথিবীর প্রথম মা ও প্রথম বাবা, অর্থাৎ আদি পিতা-মাতা কিভাবে সৃষ্টি হয়েছিল? চারিদিকের গাছপালা, প্রকৃতি, পশুপাখি, গ্রহ-নক্ষত্র-মহাবিশ্ব – এগুলিরই বা সৃষ্টি হয়েছে কিভাবে? ইত্যাদি নানান প্রশ্ন উৎসুক মনে খেলে যায়।

তখনই শুরু হয় সমস্যা। নিরপেক্ষ মানব মনকে চার…

ব্যাকট্র্যাকিং | দার্শনিকের স্রষ্টাভাবনা

আগের পর্ব: উৎসের সন্ধানে | সূচীপত্র দেখুন


আদি পিতা-মাতাকে কে তৈরী করল? কোন সে পুতুল কারিগর? একজন ভাস্কর যেভাবে পাথর কুঁদে মানুষের মূর্তি তৈরী করেন, কিংবা মাটি দিয়ে তৈরী করেন পুতুল! এই প্রশ্নের উত্তর আমরা পাই ব্যাকট্র্যাকিং পদ্ধতিতে।
মানুষের ব্যাকট্র্যাকিং
আমাকে জন্ম দিয়েছেন (সৃষ্টি করেছেন) আমার মা। আর আমার মা-কে জন্ম দিয়েছেন আমার নানী, কিন্তু তাঁরও তো মা ছিল! আমরা যদি এভাবে পিছনের দিকে যেতে শুরু করি, তাহলে:
আমার মা, তার মা, তার মা… এভাবে করে একদম শুরুতে অবশ্যই এমন এক মা থাকতে হবে, যার আর কোনো মা নাই। সে-ই পৃথিবীর প্রথম মা। এই পদ্ধতিটাকে বলা হয় ব্যাকট্র্যাকিং (backtracking)। অর্থাৎ, কোনোকিছুর পিছনের কারণকে খুঁজে বের করা।
স্রষ্টার ব্যাকট্র্যাকিং
আচ্ছা, সেই আদি মাতার সৃষ্টি হলো কিভাবে? তার নিশ্চয়ই কোনো মাতৃগর্ভে জন্ম হয়নি, কারণ সে-ই তো প্রথম মা, আদি মাতা! অতএব, নিশ্চয়ই কোনো পুতুল কারিগর নিজ হাতে গড়েছিলেন মানবজাতির আদি মাতাকে! তো, সেই আদি মাতাকে যিনি সৃষ্টি করলেন, সেই স্রষ্টাকেই আমরা বলছি “মানুষের স্রষ্টা”।
এখন কেউ জিজ্ঞাসা করতে পারে, “মানুষের স্রষ্টাকে” সৃষ্টি করলো কে? তখন উত্তরে বলতে হয়: আচ্…

কুরআনের দর্শন | দার্শনিকের কুরআন যাত্রা

আগের পর্ব: সূরা ইখলাস ও নিরপেক্ষ মন | সূচীপত্র দেখুন

কুরআনের দর্শন (philosophy) কেমন? আসলে একটি ছোট লেখায় কখনোই গোটা কুরআনের দর্শন পুরোপুরি তুলে ধরা সম্ভব না। কুরআনের যেকোনো ছাত্র একবাক্যে স্বীকার করবে যে, মৃত্যু পর্যন্ত একজন ছাত্রের “কুরআন যাত্রা” শেষ হয় না। তাই “কুরআনের দর্শন” শিরোনামের যেকোনো লেখাই অসম্পূর্ণ। এই লেখাও তার ব্যতিক্রম নয়। তবুও আমাদের আলোচনার সাথে প্রাসঙ্গিক কিছু বিষয়ে কুরআনের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার চেষ্টা করলাম।

অপরের বক্তব্য শুনতে হবে


فَبَشِّرْ عِبَادِي (١٧) الَّذِينَ يَسْتَمِعُونَ الْقَوْلَ فَيَتَّبِعُونَ أَحْسَنَهُ أُولَئِكَ الَّذِينَ هَدَاهُمُ اللَّهُ وَأُولَئِكَ هُمْ أُولُو الألْبَابِ (١٨)

“অতএব, (হে রাসূল!) সেই বান্দাদের সুসংবাদ দিন যারা বক্তব্য শোনে, অতঃপর তার মধ্য থেকে যা কিছু অধিকতর উত্তম তার অনুসরণ করে। এরাই হচ্ছে তারা যাদেরকে আল্লাহ সঠিক পথ দেখিয়েছেন এবং এরাই হচ্ছে প্রকৃত জ্ঞানবান।” (সূরা যুমার, ৩৯:১৭-১৮)

অর্থাৎ, কুরআনের দর্শন হলো মুক্ত আলোচনার দর্শন। সবার মতামত শুনতে হবে, তারপর সেগুলি যাচাই করতে হবে। যুক্তিবুদ্ধির মানদণ্ডে যেগুলি উত্তম বলে বিবেচিত হবে, সেগ…