সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ভাগ্য কি পূর্বনির্ধারিত? | যুক্তির কাঠগড়ায় ইসলাম


এটি একটি অতি বিখ্যাত প্রশ্ন। তুলনামূলক ধর্মততত্ত্বের এক বিখ্যাত মুসলিম বক্তা এই প্রশ্নের একটি উত্তর দিয়েছেন। উনার বক্তব্য থেকেই আমরা সরাসরি শুনি।

আলোচক: “বোন একটা খুব ভালো প্রশ্ন করেছেন। প্রশ্নটা হলো, যদি সবকিছুই আল্লাহর ইচ্ছাক্রমে হয়, তাহলে মানুষের স্বাধীনতা কোথায়? এই প্রশ্নটা শুধু অমুসলিমরাই করে না, মুসলিমরাও করে থাকে। আমরা ক্বাদার নিয়ে কথা বলছি। অর্থাৎ, যদি এটা ভাগ্যে (তাক্বদীরে) লেখা থাকে যে আমি ছিনতাই করব, এবং আমি ছিনতাই করি, তাহলে দায় কার? আল্লাহর! যদি আমার ভাগ্যে লেখা থাকে যে আমি খুন করব, এবং আমি খুন করি, তাহলে দোষ কার? আল্লাহর! তাহলে মানুষের স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি কোথায়? তো, এটা যদি আল্লার ইচ্ছায়ই হয়ে থাকে, অথবা ভাগ্যেই এটা লেখা থাকে আগে থেকে, তাহলে স্বাধীন ইচ্ছার স্থান কই? এই প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে –

প্রত্যেক মুসলিমকে ক্বাদার (তাক্বদীর) বিশ্বাস করতে হবে, কিন্তু আপনাকে বুঝতে হবে ভাগ্য কথাটার মানে কী। উদাহরণস্বরূপ, ধরি একটা ক্লাসরুমে ১০০ ছাত্র আছে। এবং যখন শিক্ষক এক বছর ধরে ছাত্রদেরকে ক্লাসে পড়ান, বছরশেষের পরীক্ষার আগে তিনি predict (ভবিষ্যৎবানী) করেন যে, এই ছাত্র ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হবে। এই ছাত্র সেকেন্ড ক্লাস পাবে। আর এই ছাত্র? ও ফেইল করবে। টিচার কেন প্রেডিক্ট করেন? কারণ তিনি জানেন যে এই ছাত্র খুবই পরিশ্রমী, সবসময় হোমওয়ার্ক করে। আর এই অ্যাভারেজ ছাত্রটা সেকেন্ড ক্লাস পাবে। আর ঐ ছাত্র? সে মুভি দেখতে যায়, হোমওয়ার্ক করে না, ক্লাস মিস করে। (তাই টিচার) প্রেডিক্ট করলেন যে, ও ফেইল করবে। এখন, যখন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, রেজাল্ট বের হবার পর এই ছাত্র ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়, আরেকজন সেকেন্ড ক্লাস, আর ঐ ছাত্র ফেইল করে। আমি আপনাকে প্রশ্ন করতে চাই, ফেল করা ছাত্রটা কি টিচারকে ব্লেইম করতে পারবে যে, “আপনি প্রেডিক্ট করার কারণেই আমি ফেইল করেছি?” দায় কার? শিক্ষকের, না ছাত্রের?

অবশ্যই ছাত্রের! কারণ ছাত্রটা মুভি দেখেছে, হোমওয়ার্ক করে নাই ইত্যাদি দেখে টিচার প্রেডিক্ট করেছে, আর পরে সে ফেইল করেছে। একইভাবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা মানুষকে স্বাধীনতা দিয়েছেন। আল্লাহ আপনাকে বলে দিয়েছেন কোনটা ভালো কোনটা মন্দ। কিন্তু চয়েস (choice - পছন্দ) আপনার। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি চৌরাস্তার মোড়ে উপস্থিত হন, সেখানে চারটা রাস্তা আছে: A, B, C, D. আপনি যেকোনো একটা রাস্তা বেছে নিতে পারেন, কিন্তু আপনি C রাস্তাটা বেছে নিলেন। আল্লাহ আগে থেকেই জানেন যে, যখন আপনি চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছাবেন, আপনি C নাম্বার রাস্তাটা বেছে নেবেন। তাই আল্লাহ লিখলেন: “যখন ওমুক ব্যক্তিটা চৌরাস্তার মোড়ে উপস্থিত হবে, সে C নাম্বার রাস্তাটা বেছে নেবে।” অতএব, আল্লাহ লিখেছেন বলেই যে আপনি C রাস্তা বেছে নিচ্ছেন, তা নয়। বরং, যেহেতু আপনি (ভবিষ্যতে C রাস্তাটাই) বেছে নেবেন, সেহেতু আল্লাহ লিখছেন।

আল্লাহর ইলমে গায়েব আছে। তিনি ভবিষ্যতের জ্ঞান রাখেন। (তাই) তিনি আগে থেকেই লিখে রাখেন।”

লা হাওলা ওয়া লা কুউওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ! আল্লাহ তায়ালার উপর এহেন অপবাদ আরোপ থেকে আল্লাহপাক আমাদেরকে হেফাজত করুন। প্রিয় মুসলিম ভাইয়েরা! ইসলামের খেদমতের নামে আল্লাহর উপর এধরণের অপবাদ আরোপ থেকে বিরত থাকুন! আপনারা আল্লাহ তায়ালার উপর যা আরোপ করছেন, আল্লাহ তায়ালা এধরণের বাহুল্য কাজ থেকে মুক্ত।

পাঠক! আমার আবেগকে ক্ষমা করবেন। উক্ত ব্যাখ্যাটি দ্বারা অনুপ্রাণিত আরেকটি ব্যাখ্যা একটি বইয়ে পড়লাম। সেখানে হুবহু এই “শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রের রেজাল্ট প্রেডিক্ট করার” উদাহরণ দেয়া হয়েছে। গল্পটা মোটামুটি এমন:


ইউনিভার্সিটির এক নাস্তিক শিক্ষক আর তার মুসলিম ছাত্রের মাঝে ক্লাসে প্রায়ই বিতর্ক হয়। স্যার প্রায়ই ছাত্রকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন আর ছাত্র তাকে জবাব দিয়ে কুপোকাত করে। তেমনি করে তাক্বদীর বিষয়ে একদিন স্যার সেই ছাত্রকে ক্লাসে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন। ছাত্রটি সেই শিক্ষক-ছাত্র-প্রেডিকশানের উদাহরণটা কপি-পেস্ট করে স্যারকে হারিয়ে দিল। খানিক পরে স্যার আবার প্রশ্ন করলেন যে, “তাহলে স্রষ্টা যেহেতু আগে থেকেই জানেন যে কে ভালো কাজ করবে আর কে খারাপ কাজ করবে, তাহলে পরীক্ষা নেবার কী দরকার? যারা জান্নাতে যাওয়ার তাদেরকে জান্নাতে আর যারা জাহান্নামে যাওয়ার তাদেরকে জাহান্নামে পাঠিয়ে দিলেই তো হত, তাই না?”

তখন গল্পের নায়ক মুসলিম ছাত্রটি বলে, স্যারও যেন তার ছাত্রদেরকে সরাসরি ফলাফল দিয়ে দেয়, পরীক্ষা না নেয়; কেননা স্যারও প্রেডিক্ট করেছে কোন ছাত্র কী রেজাল্ট করবে।

শেষমেষ নাস্তিক স্যারের মুখ থেকেই মুসলিম ছাত্রের পক্ষে উত্তর বেরিয়ে আসে: “পরীক্ষা না নিলে কেউ হয়তো এই বলে অভিযোগ করতে পারে যে, স্যার আমাকে ইচ্ছা করেই সেকেন্ড ক্লাস দিয়েছে। পরীক্ষা দিলে আমি হয়ত ঠিকই ফার্স্ট ক্লাস পেতাম।”

তখন বিজয়ীর মত ছাত্রটি বলে, “একদম তাই, স্যার। স্রষ্টাও এজন্য পরীক্ষা নিচ্ছেন, যাতে কেউ বলতে না পারে: দুনিয়ায় পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলে আমি অবশ্যই আজকে জান্নাতে থাকতাম। স্রষ্টা ইচ্ছা করেই আমাকে জাহান্নামে পাঠিয়েছেন।”

এরপর ক্লাসের সবাই হাততালি দিতে শুরু করলো। অর্থাৎ, রেসলিং শো শেষ হলো। মুসলিম বিজয়ী হলো রেসলিং শোতে। নাস্তিক কুপোকাত হলো। কী মজা!

ওয়াল্লাহি, ভাইয়েরা, এহেন ফ্যালাসিপূর্ণ বিতর্ক না রাসুল (সা.) কখনো করেছেন, আর না এহেন (অপ)ব্যাখ্যা আল্লাহপাক তাঁর পবিত্র কুরআনে দিয়েছেন। শুধু এখানেই শেষ না, আল্লাহর উপর এহেন বাহুল্য কাজের অপবাদ আরোপ করে আরো একটি লেখা দেখলাম ফেইসবুকে। সেটাও তুলে ধরছি। সেখানেও গল্প ব্যবহার করা হয়েছে। মুসলিম ছাত্র, আর একই ইউনিভার্সিটিতে তার নাস্তিক বন্ধু প্রতিপক্ষ। এবার দেখুন রেসলিং শো।

মুসলিম ছাত্রের গল্পমতে, নাস্তিক বন্ধুটি টাইম ট্র্যাভেল করে ৫০ বছর ভবিষ্যতে গিয়ে দেখলেন যে, রাতের সংবাদে প্রচার করা হচ্ছে ঢাকা শহরে সাতটি খুন হয়েছে। টাইম ট্র্যাভেল শেষে উনি বর্তমানে ফিরে এলেন। তারপর উনি ডায়রিতে সেকথা লিখে রাখলেন। ৫০ বছর পর, ২০৬৭ সালে পুলিশ তদন্ত করতে গিয়ে নাস্তিক ছাত্রটির ডায়রিতে পেলো যে, ওমুক দিনে সাতজনকে হত্যা করা হবে। এখন প্রশ্ন: এজন্য কি ছাত্রটি দায়ী হবেন?
তখন ডিবেটের দর্শকরা সমস্বরে বলল, না, এতে ঐ ছাত্র দায়ী নন। এরপর নাস্তিক বন্ধুকে প্রশ্ন করে তারই মুখ থেকে নিজের পক্ষে উত্তর বের করে নিলেন মুসলিম ছাত্রটি। তার প্রশ্নের জবাবে নাস্তিক বন্ধুটি বলল, “না, ঐ হত্যাকাণ্ড আমার লেখা ডায়েরীর জন্য হয় নাই, বরং আমি ৫০ বছর আগে জানতাম এটা হবে তাই আমি ডায়েরীতে লিখছি।”

তখন বিজয়ীর বেশে মুসলিম ছাত্রটি বলল, “ঠিক তেমনি, আমরা যা করছি তা এইজন্য করছি না যে তা আমাদের তা তকদীরে লিখা আছে, বরং আল্লাহ জানতেন যে আমরা এগুলো করবো, তাই তিনি আমাদের তকদীরে তা লিখে রাখছেন।”

এরপর বিচারকদের আর কিছু বলতে হলো না, দর্শকরাই হাততালি দিয়ে বুঝিয়ে দিল আসল বিজয়ী কে হয়েছে।

বাহ! ধন্যবাদ, প্রিয় মুসলিম ভাইয়েরা। একজন তো আল্লাহকে ক্লাস টিচার বানিয়েছেন, আরেকজন আল্লাহ তায়ালাকে টাইম মেশিনে করে ভ্রমণ করাচ্ছেন। লা হাওলা ওয়া লা কুউওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ!

প্রিয় পাঠক!

আমার আবেগকে ক্ষমা করবেন। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সম্পর্কে এহেন অপবাদমূলক ও ছেলেমানুষি খেলতামাশার কথা শুনে তাঁর সৃষ্টি হিসেবে আমি ভীত ও চরমভাবে দুঃখিত। জানি না এই দুঃখে আপনাকে পাশে পাবো কিনা! কিন্তু উপরের তিনটা উদাহরণই এত বেশি ফ্যালাসিতে ভরপুর যে, অবস্থা হয়েছে এমন: সর্বাঙ্গে ব্যথা, ওষুধ দিব কোথা। এখন আমি চেষ্টা করব উপরের উদাহরণগুলোর ফ্যালাসিগুলো ধরিয়ে দেবার। তার আগে আবারো স্মরণ করিয়ে দিতে চাই বইয়ের ভূমিকার কথা: “কোনো ধর্মের পক্ষেও নয়, বিপক্ষেও নয়, বরং নিরপেক্ষ মনে স্রষ্টাভাবনা করাই এই বইয়ের উদ্দেশ্য।” একইসাথে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই কুরআনের দর্শন: নিজের বিরুদ্ধে গিয়ে হলেও সত্যকে আঁকড়ে ধরতে হবে।

পাঠক, বরাবরের মতই আমরা লুকানো বাক্যগুলো ভেঙে লিখব। সেজন্য আগে মূল বাক্যটি লিখব, তারপর সেটাকে ভাঙবো। আমি আল্লাহ শব্দের পরিবর্তে স্রষ্টা শব্দটা লিখছি, কেননা মহান আল্লাহপাকের নামে এধরণের কথাবার্তা তাঁর নাম নিয়ে লেখার স্পর্ধা আমার নেই।

মূল বাক্য: “আল্লাহ আগে থেকেই জানেন যে, যখন আপনি চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছাবেন, আপনি C নাম্বার রাস্তাটা বেছে নেবেন। তাই আল্লাহ লিখলেন: “যখন ওমুক ব্যক্তিটা চৌরাস্তার মোড়ে উপস্থিত হবে, সে C নাম্বার রাস্তাটা বেছে নেবে।” অতএব, আল্লাহ লিখেছেন বলেই যে আপনি C রাস্তা বেছে নিচ্ছেন, তা নয়। বরং, যেহেতু আপনি (ভবিষ্যতে C রাস্তাটাই) বেছে নেবেন, সেহেতু আল্লাহ লিখছেন।”

ভেঙে লিখলে:

i. স্রষ্টা সময়ের অধীন (কারণ ‘আগে’, ‘পরে’ ইত্যাদি শব্দ স্রষ্টার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে)।

ii. মানুষও সময়ের অধীন।

iii. আপনি কোন রাস্তা বেছে নেবে, তা স্রষ্টা নির্ধারণ করে দেননি।

iv. কিন্তু ভবিষ্যতে আপনি যখন চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছাবেন, তখন C রাস্তাই বেছে নেবেন।

v. অতএব, ভবিষ্যতে আপনার C রাস্তা বেছে নেয়াটা নির্ধারিত (fixed, predetermined).

vi. কিন্তু iii নং পয়েন্ট অনুযায়ী, এই ভবিষ্যতটা স্রষ্টা নির্ধারণ করে দেননি।

vii. যেহেতু আপনার এই ভবিষ্যত কর্মটা স্রষ্টা নির্ধারণ করে দেননি, সেহেতু এটা –

ক. হয় আপনার নিজেকেই নির্ধারণ করতে হবে, অথবা
খ. স্রষ্টা ও আপনার বাইরের তৃতীয় কোনো শক্তিকে নির্ধারণ করতে হবে।

viii. যেহেতু বক্তার দাবী অনুযায়ী বিশ্বজগতের সকল ঘটনাই স্রষ্টা এভাবে আগে থেকেই জানতেন বলে তাক্বদীর নামক ডায়রিতে লিখে রেখেছেন, সেহেতু –

ক. জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আপনার প্রতিটা কর্ম আপনার জন্মের আগে থেকেই তাক্বদীরে লেখা আছে।

খ. অতএব, আপনার জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটা কর্ম আগে থেকেই নির্ধারিত।

গ. কিন্তু আপনার জন্মের আগে আপনার পক্ষে নিজের ভবিষ্যত কর্ম নির্ধারণ করা সম্ভব নয়, কারণ তখন তো আপনার অস্তিত্বই নেই।

ঘ. অতএব, vii.ক. অপশনটা নাকচ হয়ে যাচ্ছে।

ঙ. এবং যেহেতু iii. নং পয়েন্টে স্রষ্টা কর্তৃক ভবিষ্যৎ নির্ধারণকে অস্বীকার করা হয়েছে,

চ. অতএব, vii. খ. পয়েন্ট অনুযায়ী স্রষ্টা ও সৃষ্টির বাইরে তৃতীয় কোনো শক্তি কর্তৃক এই নির্ধারণগুলো করতে হবে।

আর এই তৃতীয় শক্তি হলো (নাউযুবিল্লাহ) স্রষ্টার সমকক্ষ দ্বিতীয় কোনো স্রষ্টা।

এর বাইরে আর কোনো উত্তর সম্ভব না। প্রিয় মুসলিম ভাইয়েরা! রেসলিং শো দেখে হাততালি দেওয়া ভাইয়েরা! আপনারা আমাদেরকে কোনদিকে ঠেলে দিচ্ছেন, আপনারা নিজেরাও কি জানেন??

দ্বিতীয় পয়েন্ট হলো, মানুষও নির্ধারণ করেনি, স্রষ্টাও নির্ধারণ করেনি, অন্য কেউ নির্ধারণ করেছে মানুষ জন্ম থেকে যত যা করবে। সেটাই যদি হয়ে থাকে, তাহলে স্রষ্টা তাক্বদীর নামক ডায়রিতে লিখলেই কী, আর না লিখলেই কী, যা হবার তাতো ঘটবেই। তাহলে তাক্বদীর নামক ডায়রিতে মানুষের ভবিষ্যত কর্ম লেখাটা কি নিতান্তই বাহুল্য একটি কাজ নয়? তাহলে এই “তাক্বদীর” নামক ডায়রির কোনো মূল্য থাকে কি? স্রষ্টার কাজ কি শুধু তৃতীয় পক্ষের মত ভবিষ্যতে গিয়ে বিভিন্ন ঘটনা দেখে অতীতে ফিরে গিয়ে তা ডায়রিতে লিখে রাখা, আর ক্রেডিট নেয়া? যেন স্রষ্টা ফেরেশতাদেরকে বলতে পারেন যে, দেখো ঐ লোকটা চৌরাস্তার মোড়ে গিয়ে C রাস্তা বেছে নেবে, আর পরে যখন সেটাই হবে, তখন স্রষ্টা বাজিতে জিতে যাবেন? আপনাদের এসব ব্যাখ্যা অনুযায়ী “তাক্বদীর” নামক ডায়রিটার আদৌ কোনো প্রয়োজনীয়তা/ ফাংশনালিটি আছে কি?

সোজা কথা, তাক্বদীর নামক ডায়রিতে না লিখলেও যখন একটা ঘটনা ঘটবেই, তখন এইটা ডায়রিতে লেখার কোনোই প্রয়োজন নেই। তৃতীয় কোনো শক্তি সবকিছু ঘটাচ্ছে, সব স্ক্রিপ্ট লিখে দিয়েছে, আর মহান আল্লাহপাক সেটা বসে বসে দেখছেন আর দর্শকের মত লিখে রাখছেন? আস্তাগফিরুল্লাহ! আল্লাহ তায়ালার উপর একী অপবাদ আরোপ করছেন আপনারা!

এহেন উদ্ভট ব্যাখ্যাকে সাপোর্ট দিতে গিয়ে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার উপর আরো অপবাদ আরোপ করা হয়েছে। যেমন, সেই একই বইয়ে বলা হয়েছে যে, জান্নাত-জাহান্নাম সব পূর্বনির্ধারিত, কিন্তু আল্লাহ তায়ালা পরীক্ষা নেন একারণে যে, পরে যেন কেউ দাবী করতে না পারে যে, তাকে সুযোগ দেওয়া হলো না।
সুবহানাল্লাহ! আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নামে একী কথা বলছেন! আল্লাহ তায়ালার কি কারো কাছে জবাবদিহিতা আছে যে তিনি জবাবদিহিতার দায়মুক্তির জন্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করবেন?
উদাহরণের সেই ক্লাসটিচার যদি পরীক্ষা না নিয়েই রেজাল্ট ঘোষণা করেন, সেক্ষেত্রে ছাত্রদের পিতামাতার কাছে তার জবাবদিহি করতে হবে, প্রিন্সিপালের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। কিন্তু আল্লাহপাকের কার কাছে জবাদিহিতার দায় আছে যে তিনি সেই দায়মুক্তির জন্য মানুষের পরীক্ষার ব্যবস্থা করবেন?

তৃতীয় বিষয় হলো, শিক্ষক তার ছাত্রের স্রষ্টা নন। অতএব, ছাত্র যদি ফেইল করে, সেটার দায়ভার শিক্ষকের না। কিন্তু স্রষ্টা তো মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। এখন তিনি যদি সৃষ্টির সময়ই এমনভাবে সৃষ্টি করেন যে মানুষটা দুনিয়ার পরীক্ষায় ফেইল করে জাহান্নামী হবে, তাহলে সেটার দায় অবশ্যই স্রষ্টার।

নাকি সৃষ্টি করেছেন তিনি, আর প্রোগ্রাম করেছে কোনো তৃতীয় শক্তি? যেই প্রোগ্রামের কারণে মানুষ দুনিয়ার পরীক্ষায় ফেইল করে জাহান্নামী হচ্ছে? আর তাই দায়ী সেই প্রোগ্রামার? আপনারা কি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার পাশাপাশি আরেকটি ইলাহকে আমদানী করতে চান? এ কোন পথে যাচ্ছেন সকলে মিলে?

আশ্চর্য! কিভাবে তারা আল্লাহ তায়ালার উপর এমন অপবাদ আরোপ করতে পারে যে, আল্লাহ তায়ালা প্রতিটা মানুষের জান্নাত/জাহান্নাম পূর্বনির্ধারিত করে রেখেছেন! আল্লাহপাক কি ন্যায়বিচারক নন? তাহলে তিনি কি কিছু মানুষকে সৃষ্টিই করেছেন জাহান্নামের আগুনে পুড়ানোর জন্য? কোথায় খোদার ন্যায়বিচার!

প্রিয় পাঠক!

আপনারা জানেন যে, তুলনামূলক ধর্মততত্ত্বের সেই বিখ্যাত বক্তার বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর শেষে দর্শক হাততালি দিয়ে থাকে। একইভাবে হাততালি পায় উক্ত দুই গল্পের নায়ক মুসলিম বিতার্কিকেরা। কিন্তু হাততালিতো কারো সঠিক-ভুল নির্ধারণ করে না। মেজরিটি মানুষের সমর্থনও সঠিক-ভুল নির্ধারণ করে না। বরং সঠিক-ভুল নির্ধারণ করেন যুক্তিবিদ্যা ও দর্শনে অভিজ্ঞ নিরপেক্ষ বিচারক। আর প্রিয় পাঠক, আপনাকে সেই আসনেই বসিয়েছিলাম।

আপনাকে সেই মর্যাদা দিয়েই আপনার নিরপেক্ষ বিবেক-বুদ্ধির কাছে আমি নিবেদন করছি যে, উক্ত উদাহরণগুলোতে স্রষ্টাকে সময় দ্বারা বন্দী হিসেবে দেখানো হয়েছে। অথচ আমাদের দার্শনিক স্রষ্টাভাবনার আটটি প্রস্তাব থেকে আমরা জানি যে, তিনি সময়ের ঊর্ধ্বে। সময় তাঁর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তিনি অসীম, true infinity। অতএব, “স্রষ্টা আগে থেকেই জানেন” – এটাই একটা ভুল বাক্য। স্রষ্টা আগে জানেন, পরে জানেন, আজ জানলেন, কাল জানবেন – এধরণের সমস্ত বাক্যই ভুল বাক্য। কেননা এগুলিতে স্রষ্টার উপর সময় আরোপ করা হয়েছে। অথচ সময় হলো সৃষ্টির একটি মাত্রা, স্রষ্টার নয়। পরম স্রষ্টা মাত্রার ঊর্ধ্বে। এমতাবস্থায় – “স্রষ্টা আগে থেকেই জানেন কিনা আমি কী করব” – এটি একটি ভুল বাক্য।

দ্বিতীয়তঃ, মানুষ যাকিছু অন্যায় করে, সেটা এইসব তথাকথিত ইসলামিক ব্যাখ্যার কারণে এখন না স্রষ্টার উপর দায় চাপাতে পারবে, আর না সে নিজে দায় নেবে। বরং সে নিজেও দায়মুক্ত হয়ে যাবে, কেননা – “আমিযে পাপী হবো, আমিযে জাহান্নামী হবো, সেটাতো স্রষ্টা আগে থেকেই তাক্বদীরে লিখে রেখেছে! কারণ স্রষ্টা ভবিষ্যত জানেন, আর তিনি জানেন যে আমি এই এই পাপ করব।”

প্রিয় পাঠক!

কেন আমরা মুসলমানেরা এমন দুঃখজনক দুরবস্থায় পতিত হলাম? সাংবাদিকের মত দূরে দাঁড়িয়ে পর্যবেক্ষণ করে রিপোর্ট লেখার মত ‘তাক্বদীর রিপোর্টার’ এর অপবাদ আরোপ করলাম মহান আল্লাহ তায়ালার উপর! আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন – কিন্তু কেন আমরা এই দুঃখজনক অবস্থায় পতিত হলাম?

কারণ আমরা নিজেদের বাপ-দাদার ধর্মকে সঠিক প্রমাণ করার নিয়তে ধর্মচিন্তা করি, বিতর্ক করি। যার ফলে আমাদের সামনে কুরআন তার আপন সৌন্দর্যে বিকশিত হয় না। আমরা নাস্তিকদের হারিয়ে নিজেরা জিতে “আমিই সঠিক” এর আত্মতৃপ্তি অনুভব করতে চাই, আর তাই যেনতেনভাবে যেকরেই হোক জেতার চেষ্টা করতে থাকি, মাথা দিয়ে দেয়াল ঠেলতে থাকি। ফলস্বরূপ এধরণের উদ্ভট, হাস্যকর, দুঃখজনক স্পর্ধামূলক ব্যাখ্যা নিয়ে হাজির হই: স্রষ্টা ভবিষ্যতে গিয়ে গিয়ে দেখে এসে অপ্রয়োজনীয় ‘তাক্বদীর ডায়রিতে’ সব লিখে রাখেন, যেটা লিখলেও যা হবার তা-ই হত, আর না লিখলেও যা হবার তা-ই হত! হে আল্লাহ! আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আমরা সত্যধর্ম ইসলামকে অন্ধবিশ্বাসে আঁকড়ে ধরেছিলাম, আর তাই সেই অন্ধবিশ্বাসকে প্রতিষ্ঠা করার গোঁড়ামি করতে গিয়ে আপনার উপরে অপবাদ আরোপ করে ফেলেছি। আমাদেরকে ক্ষমা করুন!

প্রিয় পাঠক!

একদিকে নাস্তিকদের ফ্যালাসির প্রাসাদ, অপরদিকে অন্ধবিশ্বাসী মুসলিমদের নিজ বিশ্বাস টিকিয়ে রাখার প্রাণান্ত চেষ্টা – এই দুইয়ে চারিদিক সয়লাব। এর মাঝে আপনি একা, একা আমি। এসব তর্ক বিতর্কের ভিড়ে একটু দম ফেলে পরম প্রভুর সান্নিধ্য অনুভব করব – সেই সুযোগ কোথায়! কেউ তো চেষ্টা করে না নিরপেক্ষভাবে দার্শনিক যাত্রা করার! কেউ তো এমন মানসকিতা নিয়ে স্রষ্টাভাবনা করে না যে – “দেখি একটু দার্শনিক উপায়ে পথ হেঁটে, পথের শেষে কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাই?” বরং আগে থেকেই একটা উদ্দেশ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে: “ইসলামকে সত্য প্রমাণ করবোই করবো।” কিংবা – “কুরআনকে ভুল প্রমাণ করবোই করব।” আর তাই এধরণের রেসলিং শোতে লিপ্ত মুসলিম ও নাস্তিক – উভয়েই দিশাহারা হয়ে ঘুরপাক খেতে থাকে। নিজ বিশ্বাস/ অবিশ্বাসকে জিতানোর এই মানসিকতা পরিত্যাগ না করলে প্রকৃত সত্য (হক্ব) আমাদের কারো সামনেই উন্মোচিত হবে না, তা সেটা আমরা আস্তিক হই কি নাস্তিক-ই হই না কেন। কুরআনের দরজার ওপারে যে কী পরিমাণ মণি-মুক্তা-সৌন্দর্য লুক্কায়িত আছে, সে দরজাও কোনোদিন খুলবে না, যদি আমরা নিজের দলকে জিতানোর প্রচেষ্টায় লিপ্ত থাকি।

তাহলে তাক্বদীর প্রশ্নের সঠিক উত্তর কী? হ্যাঁ, প্রিয় পাঠক, এই পর্যায়ে এসে সময় হয়েছে অনন্তের পথে যাত্রা করবার। চলুন এগিয়ে যাই।

_______________________________

ভবিষ্যত দেখে এসে তা ‘তাক্বদীর রিপোর্টে’ লেখা একটি বাহুল্য কাজ।

পরম স্রষ্টা সকল প্রকার বাহুল্য কাজ থেকে মুক্ত।

তাক্বদীরের ভুল ব্যাখ্যাগুলির যে যুক্তিখণ্ডন এই পর্বে করা হলো, আপনি কি তাতে একমত? নিচের কোডটি স্ক্যান করে আপনার মতামত শেয়ার করুন

মন্তব্যসমূহ

সর্বাধিক জনপ্রিয়

স্রষ্টাভাবনা

প্রথম ভাগ: দার্শনিকের স্রষ্টাভাবনা | | পর্ব-১: উৎসের সন্ধানে উৎসের সন্ধান করা মানুষের জন্মগত বৈশিষ্ট্য। মানুষ তার আশেপাশের জিনিসের উৎস জানতে চায়। কোথাও পিঁপড়ার লাইন দেখলে সেই লাইন ধরে এগিয়ে গিয়ে পিঁপড়ার বাসা খুঁজে বের করে। নাকে সুঘ্রাণ ভেসে এলে তার উৎস খোঁজে। অপরিচিত কোনো উদ্ভিদ, প্রাণী কিংবা যেকোনো অচেনা জিনিস দেখলে চিন্তা করে – কোথা থেকে এলো? কোথাও কোনো সুন্দর আর্টওয়ার্ক দেখলে অচেনা শিল্পীর প্রশংসা করে। আকাশের বজ্রপাত, বৃষ্টি, রংধনু কিংবা সাগরতলের অচেনা জগৎ নিয়েও মানুষ চিন্তা করে। এমনকি ছোট শিশু, যে হয়তো কথাই বলতে শেখেনি, সে-ও কোনো শব্দ শুনলে তার উৎসের দিকে মাথা ঘুরায়। অর্থাৎ, মানুষ জন্মগতভাবেই কৌতুহলপ্রবণ।

একটা বাচ্চা জ্ঞান হবার পর চিন্তা করে – আমি কোথা থেকে এলাম? আরো বড় হবার পর চিন্তা করে – আমার মা কোথা থেকে এলো? এমনি করে একসময় ভাবে, পৃথিবীর প্রথম মা ও প্রথম বাবা, অর্থাৎ আদি পিতা-মাতা কিভাবে সৃষ্টি হয়েছিল? চারিদিকের গাছপালা, প্রকৃতি, পশুপাখি, গ্রহ-নক্ষত্র-মহাবিশ্ব – এগুলিরই বা সৃষ্টি হয়েছে কিভাবে? ইত্যাদি নানান প্রশ্ন উৎসুক মনে খেলে যায়।

তখনই শুরু হয় সমস্যা। নিরপেক্ষ মানব মনকে চার…

ব্যাকট্র্যাকিং | দার্শনিকের স্রষ্টাভাবনা

আগের পর্ব: উৎসের সন্ধানে | সূচীপত্র দেখুন


আদি পিতা-মাতাকে কে তৈরী করল? কোন সে পুতুল কারিগর? একজন ভাস্কর যেভাবে পাথর কুঁদে মানুষের মূর্তি তৈরী করেন, কিংবা মাটি দিয়ে তৈরী করেন পুতুল! এই প্রশ্নের উত্তর আমরা পাই ব্যাকট্র্যাকিং পদ্ধতিতে।
মানুষের ব্যাকট্র্যাকিং
আমাকে জন্ম দিয়েছেন (সৃষ্টি করেছেন) আমার মা। আর আমার মা-কে জন্ম দিয়েছেন আমার নানী, কিন্তু তাঁরও তো মা ছিল! আমরা যদি এভাবে পিছনের দিকে যেতে শুরু করি, তাহলে:
আমার মা, তার মা, তার মা… এভাবে করে একদম শুরুতে অবশ্যই এমন এক মা থাকতে হবে, যার আর কোনো মা নাই। সে-ই পৃথিবীর প্রথম মা। এই পদ্ধতিটাকে বলা হয় ব্যাকট্র্যাকিং (backtracking)। অর্থাৎ, কোনোকিছুর পিছনের কারণকে খুঁজে বের করা।
স্রষ্টার ব্যাকট্র্যাকিং
আচ্ছা, সেই আদি মাতার সৃষ্টি হলো কিভাবে? তার নিশ্চয়ই কোনো মাতৃগর্ভে জন্ম হয়নি, কারণ সে-ই তো প্রথম মা, আদি মাতা! অতএব, নিশ্চয়ই কোনো পুতুল কারিগর নিজ হাতে গড়েছিলেন মানবজাতির আদি মাতাকে! তো, সেই আদি মাতাকে যিনি সৃষ্টি করলেন, সেই স্রষ্টাকেই আমরা বলছি “মানুষের স্রষ্টা”।
এখন কেউ জিজ্ঞাসা করতে পারে, “মানুষের স্রষ্টাকে” সৃষ্টি করলো কে? তখন উত্তরে বলতে হয়: আচ্…

কুরআনের দর্শন | দার্শনিকের কুরআন যাত্রা

আগের পর্ব: সূরা ইখলাস ও নিরপেক্ষ মন | সূচীপত্র দেখুন

কুরআনের দর্শন (philosophy) কেমন? আসলে একটি ছোট লেখায় কখনোই গোটা কুরআনের দর্শন পুরোপুরি তুলে ধরা সম্ভব না। কুরআনের যেকোনো ছাত্র একবাক্যে স্বীকার করবে যে, মৃত্যু পর্যন্ত একজন ছাত্রের “কুরআন যাত্রা” শেষ হয় না। তাই “কুরআনের দর্শন” শিরোনামের যেকোনো লেখাই অসম্পূর্ণ। এই লেখাও তার ব্যতিক্রম নয়। তবুও আমাদের আলোচনার সাথে প্রাসঙ্গিক কিছু বিষয়ে কুরআনের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার চেষ্টা করলাম।

অপরের বক্তব্য শুনতে হবে


فَبَشِّرْ عِبَادِي (١٧) الَّذِينَ يَسْتَمِعُونَ الْقَوْلَ فَيَتَّبِعُونَ أَحْسَنَهُ أُولَئِكَ الَّذِينَ هَدَاهُمُ اللَّهُ وَأُولَئِكَ هُمْ أُولُو الألْبَابِ (١٨)

“অতএব, (হে রাসূল!) সেই বান্দাদের সুসংবাদ দিন যারা বক্তব্য শোনে, অতঃপর তার মধ্য থেকে যা কিছু অধিকতর উত্তম তার অনুসরণ করে। এরাই হচ্ছে তারা যাদেরকে আল্লাহ সঠিক পথ দেখিয়েছেন এবং এরাই হচ্ছে প্রকৃত জ্ঞানবান।” (সূরা যুমার, ৩৯:১৭-১৮)

অর্থাৎ, কুরআনের দর্শন হলো মুক্ত আলোচনার দর্শন। সবার মতামত শুনতে হবে, তারপর সেগুলি যাচাই করতে হবে। যুক্তিবুদ্ধির মানদণ্ডে যেগুলি উত্তম বলে বিবেচিত হবে, সেগ…