সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

কুরআন ও বিজ্ঞান | যুক্তির কাঠগড়ায় ইসলাম


“কুরআন কি বিজ্ঞান দ্বারা সমর্থিত?” নাস্তিকের প্রশ্ন।

“হ্যাঁ, কুরআনে প্রচুর সায়েন্টিফিক বিষয় আছে…।” আধুনিক মুসলিমের জবাব।

তারপর শুরু হলো বিতর্ক। বিবর্তনবাদ, বিগ ব্যাং, কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশান, মাতৃগর্ভে সন্তান বেড়ে ওঠার ধাপসমূহ, সূর্যের উদয়-অস্ত, পৃথিবী গোল নাকি সমতল…। নাস্তিক বিতার্কিক কুরআনের কোনো একটা আয়াতকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তো মুসলিম বিতার্কিক সেটাকে বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণের জোর প্রচেষ্টা চালায়। তারপর কোনোমতে সেটাকে প্রমাণ করতে পারলেও বিতর্ক শেষ হয় না, তখন নাস্তিক নতুন একটা বিষয় নিয়ে আসে। এভাবে চলতেই থাকে। আসুন এজাতীয় কিছু বিষয় কুরআন থেকে দেখি, যা আধুনিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে অবাস্তব বলে মনে হয়।

কুরআনের বর্ণিত বিভিন্ন অলৌকিক ঘটনাসমূহ
১. সূরা ক্বমার অনুযায়ী চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল অথবা কেয়ামতের দিনেও দ্বিখণ্ডিত হবে।

২. মূসা (আ.) তাঁর হাতের লাঠি ফেলে দিলে তা সাপে পরিণত হয়েছিল।

৩. মূসা (আ.) তাঁর হাতের লাঠি দিয়ে সাগরে আঘাত করলে পানি দুই ভাগ হয়ে যায়।

৪. ইব্রাহীম (আ.)-কে শত্রুরা অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করলে আল্লাহ তায়ালা আগুনকে আদেশ করেন: “হে আগুন, তুমি ইব্রাহীমের জন্য সুশীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও।”

৫. ঈসা (আ.) তার সঙ্গীদের অনুরোধে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলে আকাশ থেকে একটি খাদ্যভর্তি টেবিল হাজির হয়, যা খ্রিষ্টধর্মে The Last Supper নামে বিখ্যাত হয়ে আছে।

৬. ইব্রাহীম (আ.) কয়েকটা পাখিকে টুকরা করে বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন পাহাড়ে রেখে আসেন। তারপর ডাক দিলে সেগুলো উড়ে তাঁর কাছে চলে আসে।

৭. ঈসা (আ.) মাটির পাখিকে ফুঁ দিয়ে জীবন্ত করতেন এবং কোনো মানুষ কী খেয়ে এসেছে ও তার বাসায় কী আছে, তা তিনি বলে দিতেন।

৮. সোলায়মান (আ.) পাখি ও পিঁপড়ার ভাষা বুঝতে পারতেন।

বিজ্ঞানবাদী মুসলমিদের প্রতি প্রশ্ন।

আধুনিক বিজ্ঞানবাদী মুসলমানদেরকে আমি প্রশ্ন করতে চাই, আপনারা যদি উপরের ‘অবৈজ্ঞানিক’ ঘটনাগুলোকে সত্য বলে মেনে নেন, তাহলে কেন অন্য ক্ষেত্রে ‘কুরআনে বিজ্ঞান’ প্রমাণের চেষ্টা চালান? কেন কুরআনে বিগ ব্যাং, চন্দ্র-সূর্যের কক্ষপথ, মাতৃগর্ভে সন্তান বেড়ে ওঠার পদ্ধতি – ইত্যাদি ‘বৈজ্ঞানিক সত্য’ দেখিয়ে কুরআনকে ঐশী গ্রন্থ প্রমাণের চেষ্টা চালান? আপনি যদি কুরআনের একটি হলেও ‘অবৈজ্ঞানিক’ ঘটনা মেনে নেন, তাহলে আরো হাজারটা অবৈজ্ঞানিক ঘটনা মেনে নিতেও আপনার সমস্যা থাকার কথা না। তবে কেন আপনি ‘কুরআনে বিজ্ঞান’ প্রমাণের চেষ্টায় রত? নিরপেক্ষতার স্বার্থে ‘কুরআনের অবৈজ্ঞানিক বিষয়’ নিয়েও কি আপনার আলোচনা করা উচিত নয়? আকাশ থেকে খাদ্যভর্তি টেবিল হাজির হওয়া কোন বিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করবেন আপনি? আপনিও কি তবে নাস্তিকদের মত একপেশে হয়ে শুধুমাত্র যেটুকু আলোচনা করলে আপনি জিততে পারবেন, ওটুকুই আলোচনা করবেন? শুধুমাত্র কুরআনে বিগ ব্যাং, চন্দ্র-সূর্যের কক্ষপথ ও মাতৃগর্ভে সন্তান বেড়ে ওঠা ইত্যাদি আলোচনা করবেন, কিন্তু আকাশ থেকে খাদ্যভর্তি টেবিল হাজির হওয়ার মত ‘অবৈজ্ঞানিক’ বিষয় চেপে যাবেন? এ-ই কি আপনার নিরপেক্ষতা?

বিজ্ঞানবাদী নাস্তিকদের প্রতি প্রশ্ন।

একইভাবে আধুনিক বিজ্ঞানবাদী নাস্তিকদেরকে আমি প্রশ্ন করতে চাই যে, কুরআনে এমন অনেক বিষয় আছে, যা আধুনিক বিজ্ঞান মাত্র কিছুদিন আগে আবিষ্কার করেছে। ‘কুরআনে বিজ্ঞান’ এর সেসব আলোচনা বিজ্ঞানবাদী মুসলিমদের কল্যাণে আপনারা সবাই-ই জানেন। এমনকি পাশাপাশি প্রবাহিত দুই দরিয়ার দুইরকম পানি যে পরস্পর মিশ্রিত হয় না, বাংলাদেশী হয়ে থাকলে সেটা অন্ততঃ পদ্মা-মেঘনার মোহনায় দেখেছেন। [QR - ভিডিও: পদ্মা-মেঘনার মিলনস্থল, দুই রঙের পানি।]

১৪০০ বছর আগে রুক্ষ-শুষ্ক আরব মরুভূমিতে বসবাসকারী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কিভাবে সৃষ্টিজগতের এত রহস্যের সন্ধান পেলেন, সেই বিস্ময় কি জাগে না আপনার মনে? নিরপেক্ষতার স্বার্থে অন্ততঃ এতটুকু কি আপনাদের আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত নয় যে, “যেভাবেই হোক, মুহাম্মদের কোনো একটা চ্যানেল ছিল, যার মাধ্যমে সে সৃষ্টিজগতের বহু বৈজ্ঞানিক রহস্য জানতে পারতো?” আপনাদের আলোচনায় কি এতটুকু নিরপেক্ষতা আমরা আশা করতে পারি না?

কিন্তু আফসোস! প্রিয় পাঠক, না বিজ্ঞানাবাদী নাস্তিকেরা সেই নিরপেক্ষতা প্রদর্শন করে, আর না বিজ্ঞানবাদী মুসলমানেরা সেই নিরপেক্ষতা প্রদর্শন করে। আর এমনই সব একপেশে ও পক্ষপাতদুষ্ট নাস্তিক বনাম মুসলিম বিতর্কে আপনার-আমার চারিপাশ সয়লাব হয়ে আছে। এতসব পক্ষপাতিত্বের মাঝে আপনি একা; দার্শনিক স্রষ্টাভাবনা করতে করতে কুরআনের কাছে এসে থমকে গেছেন: কুরআনের উন্নত দর্শন ও অকাট্য যুক্তি আপনাকে স্তম্ভিত করেছে, আপনি জেনে নিয়েছেন যে এটা অবশ্যই সত্য গ্রন্থ, পরম স্রষ্টা মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। তখন যখন আপনি কুরআনে ‘বৈজ্ঞানিক’ ঘটনা দেখেন, তাতেও বিস্মিত হন, আবার যেসব ঘটনা আপাতঃদৃষ্টিতে ‘অবৈজ্ঞানিক’ বলে মনে হয়, সেসব দেখেও কৌতুহলী হন। কিন্তু এসব বৈজ্ঞানিক কিংবা অবৈজ্ঞানিক – কোনো ঘটনা দ্বারাই আপনি কুরআনের সত্য-মিথ্যা নির্ধারণ করেননি, বরং কুরআন যে সত্য, তা তো আপনি নির্ধারণ করেছে দার্শনিকের স্রষ্টাভাবনার সাথে সূরা ইখলাস মিলে যাওয়ার মাধ্যমে।

পাঠক! কিন্তু বিজ্ঞানবাদী এসব নাস্তিক আর মুসলমানদের অবস্থা দেখলে মনে হয় যে, বিজ্ঞান হলো আধুনিক যুগের (অন্ধবিশ্বাসের) ধর্ম, আর বিজ্ঞানীরা সেই ধর্মের দেবতা। দেবতা বিজ্ঞানীদের মুখনিঃসৃত বাণী দ্বারা কুরআনকে সত্য কিংবা মিথ্যা প্রমাণ করতেই হবে – এমন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মাথা দিয়ে দেয়াল ঠেলছে নাস্তিক আর বিজ্ঞানবাদী মুসলমানেরা।

স্রষ্টা সংক্রান্ত আলোচনায় বিজ্ঞানের মানদণ্ড ব্যবহারের অসুবিধা।

পাঠক, আমরা উপরের আলোচনায় দেখলাম যে, বিজ্ঞানবাদী মুসলিম ও নাস্তিক – উভয়েই স্তম্ভিত হয়ে বোকা হয়ে যায় কুরআনের কাছে এসে। কারণ, একদিকে এটা যেমন সত্য যে, এত এত বৈজ্ঞানিক তথ্য স্রষ্টার কাছ থেকে ছাড়া অন্য কোনোভাবে পাওয়া হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর পক্ষে সম্ভব ছিল না, অতএব কুরআন অবশ্যই পরম স্রষ্টার প্রেরিত গ্রন্থ, তেমনি আবার এটাও সত্য যে, আকাশ থেকে খাদ্যভর্তি টেবিল হাজির হওয়া কিংবা মৃত পাখিকে ডাক দিলে সেসব টুকরা জোড়া লেগে উড়ে চলে আসা – এগুলো নিতান্তই অবৈজ্ঞানিক ব্যাপার।

পাঠক! সেইসাথে আরো প্রশ্ন এসে যায় যে, ইসলামের প্রথমযুগে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিল, তারা কি ‘কুরআনে বিজ্ঞান’ দেখে তারপর ইসলামকে সত্য বলে জেনেছিল? বিগ ব্যাং, চন্দ্র-সূর্যের কক্ষপথ, মাতৃগর্ভে সন্তান বেড়ে ওঠার প্রক্রিয়াসহ আরো যত বৈজ্ঞানিক তথ্য কুরআনে আছে – এগুলোর সবই তো ঐযুগের মানুষদের কাছে অবাস্তব-অবৈজ্ঞানিক ব্যাপার বলে মনে হত! তাহলে কী সেই রহস্য, যার ফলে প্রথমযুগের মানুষদের ঈমান সবচেয়ে বেশি ছিল, আর আজকে কুরআনে এত বিজ্ঞান আবিষ্কার করেও আমাদের ঈমান তাদের ধারেকাছেও নেই?

ইসলামকে সত্য প্রমাণে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের অসুবিধা।

বর্তমানে মিডিয়ার কল্যাণে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব বিষয়টা খুব জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থকে পাশাপাশি তুলনা করে ইসলামকে সঠিক প্রমাণ করা – এই বিষয়টা খুব জনপ্রিয় হয়েছে ইদানিং। এই বইটি লেখার সময় আমার এক স্নেহভাজন পাঠিকা বলেছিল, “আপনি ‘দার্শনিক স্রষ্টাভাবনার’ শেষে হুট করেই লাফ দিয়ে কুরআনে (সূরা ইখলাসে) চলে আসলেন, তারচেয়ে অন্যান্য ধর্মের সাথে তুলনামূলক আলোচনা করে দেখালে ভালো হত।” আমি বুঝেছিলাম যে, টিভিতে “তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের বিতর্কে ইসলামকে জয়ী করার রেসলিং শো” দেখার ফলে তার এই দৃষ্টিভঙ্গি তৈরী হয়েছে। অপ্রভাবিত মন হয়ত এভাবে ভাবত না!

দেখুন, ইসলামের প্রথমযুগে যারা ঈমান এনেছিলেন, তারা কি ইহুদী ও খ্রিষ্টধর্মের সাথে ইসলামের তুলনামূলক আলোচনায় ইসলামকে জয়ী হতে দেখে তারপর ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন? নাকি ঐ যুগে ইসলাম ছাড়া আর কোনো ধর্ম পৃথিবীতে ছিল না?

প্রিয় পাঠক,

এখানে যুক্তির একটি বিষয় সংক্ষেপে আলোচনা করা প্রয়োজন। আর তা হলো, ১০০ জন মানুষের মাঝে আপনাকে সত্যবাদী প্রমাণ করার জন্য বাকী ৯৯ জনকে মিথ্যাবাদী প্রমাণ করার দরকার নাই। এমনকি যদি বাকী ৯৯ জনকে মিথ্যাবাদী প্রমাণ করেও ফেলি, তবুও তাতে প্রমাণিত হয় না যে, আপনি সত্যবাদী। বরং যদি প্রথমেই আপনাকে সত্যবাদী প্রমাণ করা যায়, তাহলে বাকী ৯৯ জনকে নিয়ে আলোচনারই আর দরকার হয় না। একইভাবে কুরআন হাতে নিয়ে যদি সরাসরি বুঝতে পারি যে এটা পরম স্রষ্টা আল্লাহ তায়ালার প্রেরিত গ্রন্থ, তাহলে আমার আর তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের আলোচনার প্রয়োজন হয় না। এখন আপনিই বলুন, প্রিয় পাঠক, ৯৯ জন মানুষকে মিথ্যাবাদী প্রমাণ করতে সময় নষ্ট করবেন, নাকি আপনার মূল্যবান সময়টুকু ব্যয় করবেন ১ জন মানুষকে সত্যবাদী প্রমাণ করতে? কোনটা অধিকতর উত্তম পদ্ধতি? পৃথিবীর দশটা ধর্মকে ভুল প্রমাণ করা, নাকি ইসলাম ও কুরআন নিয়ে আলোচনা করে ইসলামকে অকাট্যভাবে সত্য প্রমাণ করা?

ইসলাম প্রচারে হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর পদ্ধতি

প্রিয় মুসলিম ভাই! ইসলাম প্রচারের জন্য খোদ মুহাম্মদ (সা.)-ই ‘কুরআনে বিজ্ঞান’ প্রমাণ করেননি নাস্তিকদের কাছে। ‘কুরআন ও বিজ্ঞান’ বিতর্কও করেননি, করেননি তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের বিতর্ক। ইসলাম প্রচারের জন্য তিনি না বিজ্ঞানের উপর নির্ভর করেছেন, আর না নির্ভর করেছেন অন্য ধর্মকে মিথ্যা প্রমাণ করার উপর। কিংবা এমন যুক্তিও দেখাননি যে, “বাইবেলে আমার সম্পর্কে ভবিষ্যৎবাণী ছিল, অতএব তোমরা আমাকে মেনে নাও!” ইসলাম প্রচারে তিনি এসব কিছুই ব্যবহার করেননি। তিনি শুধু নিয়ে এসেছিলেন কুরআন, আর কুরআনের বাণীগুলোই ছিল ইসলাম প্রচারের জন্য যথেষ্ট। ইসলাম হলো সত্য (হক্ব), আর হক্ব তার নিজগুনে প্রতিষ্ঠিত হয়। অন্য কারো উপর সে নির্ভরশীল হয় না। না বিজ্ঞানের উপর, আর না তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের আলোচনার উপর। কুরআন নিজেই নিজের সত্যায়নকারী, এবং নিজগুণে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। তাইতো হযরত মুহাম্মদ (সা.) শুধু কুরআনের বাণীকেই ইসলাম প্রচারের জন্য যথেষ্ট গণ্য করেছেন।

সেখানে কত বড় স্পর্ধা আমাদের যে, তাঁর আনীত গ্রন্থ ও ধর্মকে সত্য বলে প্রমাণ করার জন্য তাঁর পথ অনুসরণ না করে আমাদের নিজেদের আবিষ্কৃত পন্থা অনুসরণ করব: “বিজ্ঞান দ্বারা কুরআন ও ইসলামকে সত্য প্রমাণের” চেষ্টা চালাবো? কিংবা তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের বিতর্কে হাততালি পেয়ে ইসলামকে সত্য প্রমাণ করে আসব? এসব মানুষের কত বড় স্পর্ধা যে, রাসুল (সা.) এর উত্তোলিত পতাকা বহন করবে, অথচ তাঁর অনুসৃত পদ্ধতি ছেড়ে নিজের আবিষ্কৃত পন্থা অনুসরণ করবে? আধুনিক যুগের এইসব মুসলমানেরা কি হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর চেয়েও অধিক জ্ঞানী হয়ে গিয়েছে? নাকি ইসলাম পুরনো হয়ে গিয়েছে যে, শুধু কুরআনের আয়াত এখন আর যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন বিজ্ঞান ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের? সাবধান! হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর চেয়ে আগ বাড়িয়ে কাজ করলে আপনাদের এসব ‘ইসলামের খেদমত’ তো কবুল হবেই না, বরং আপনি মনে করতে থাকবেন যে আপনি ইসলামের বড় খেদমত করছেন, অথচ আপনার আমল ব্যর্থ হয়ে যাবে, আপনি টেরও পাবেন না! রাসুলের (সা.) চেয়ে আগে না বাড়ার ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালার সাবধানবানীকে ভয় করুন!

প্রিয় পাঠক!

ইসলামের সর্বজনীননতা তো এখানেই যে, কুরআনের দর্শন ও যুক্তিগুলো স্থান-কালের ঊর্ধ্বে। First cause এর যে যুক্তি কুরআনে দেয়া হয়েছে, তা শিক্ষিত-অশিক্ষিত, বিজ্ঞানী-অবিজ্ঞানী যেকোনো মানুষের পক্ষে আজকেও বোঝা সম্ভব, ১৪০০ বছর আগেও বোঝা সম্ভব ছিল, এবং ভবিষ্যতেও বোঝা সম্ভব হবে, ইনশাআল্লাহ। কুরআনের দর্শন ও কুরআনের যুক্তি নিয়ে বইয়ের দ্বিতীয় ভাগে আমরা যে বিস্তারিত আলোচনা করেছি, প্রিয় পাঠক, সেসব যুক্তি ও দর্শন পৃথিবীর যেকোনো মানুষের কাছে আপনি নিয়ে যান, সে ঠিকই প্রত্যয়ন করবে যে, এগুলিই সত্য, কুরআন সত্য। ইসলাম তো একারণেই কালজয়ী ধর্ম হিসেবে মানব ইতিহাসে স্থান লাভ করেছে।

তাহলে ধর্ম ও বিজ্ঞানের মাঝে সম্পর্ক কী?

প্রিয় পাঠক,

এই বইয়ে আমরা দেখেছি যে, যুক্তি ও দর্শনের উপর ভিত্তি করে ধর্ম সত্যের কাছে পৌঁছে যায়: জবাব মেলে স্রষ্টাপ্রশ্নের। বিজ্ঞানও বিভিন্ন বিষয়ে সত্যের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করে, তবে সেটা ভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে। আমরা বিজ্ঞানও বর্জন করি না, বর্জন করি না দর্শন ও যুক্তিকেও। কিন্তু আপনাকে বুঝতে হবে প্রতিটা পদ্ধতির ক্ষেত্র ও সীমা। বিজ্ঞানের কাজ সৃষ্টিজগতের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সূত্র আবিষ্কার করা। সৃষ্টিজগতের ঊর্ধ্বে যাওয়া বিজ্ঞানের কাজ নয়। সৃষ্টিজগতের ঊর্ধ্বের বিষয় নিয়ে চিন্তা করা দর্শনের কাজ। কিন্তু দর্শনও শেষ কথা নয়, একজন মুসলিম তার চেয়েও ঊর্ধ্বে যাত্রা করে: অনন্তের পথে যাত্রা…। অর্থাৎ, বিজ্ঞান, যুক্তি ও দর্শন – প্রতিটারই নিজস্ব ক্ষেত্র ও সীমা আছে, এসব ক্ষেত্র ও সীমা বুঝেই যেখানে যেটা প্রযোজ্য, সেখানে সেটা ব্যবহার করতে হবে। যুক্তি ও দর্শনের সীমা অনেকদূর পর্যন্ত বিস্তৃত: স্রষ্টাপ্রশ্নের উত্তর দিতে পারে সে। অপরদিকে বিজ্ঞানের সীমা তুলনায় অনেকটাই ছোট: সৃষ্টিজগতের ভিতরে শুধু তার কাজ।

স্রষ্টাভাবনা করতে এসে নাস্তিকের সাথে বিতর্কের প্যাঁচে পড়ে যদি আপনি যুক্তি ও দর্শনের পথ থেকে নিচে নেমে বিজ্ঞানকে মানদণ্ড করে বসেন, তাহলে ঐ মুহুর্তেই তো আপনি হেরে গেলেন! কারন স্রষ্টাপ্রশ্নের উত্তর দেয়া তো বিজ্ঞানের কাজ নয়। এজন্যেই নাস্তিক বারবার আপনাকে বিজ্ঞানের মানদণ্ডের দিকে টেনে নিয়ে যেতে চাইবে। কিন্তু সে যতই আপনাকে টেনে নামাতে চা’ক না কেন, আপনি তা হতে দেবেন না। বরং আপনি তাকে হাত ধরে টেনে তুলুন, নিয়ে আসুন তাকে যুক্তি ও দর্শনের বিস্তৃত ময়দানে। মুক্ত বাতাসে দম নেবার মত করে তাকে দেখিয়ে দিন: স্রষ্টাভাবনা।

শুধুই কি বিজ্ঞান?

কিন্তু হায় প্রভাবিত মন! তবুও যদি পাঠকের মনে ঐসব প্রশ্ন কাঁটার মত বিঁধতে থাকে যে, তাহলে কুরআনে বর্ণিত অবৈজ্ঞানিক বিষয়গুলোর কী হবে? আকাশ থেকে টেবিল হাজির হওয়া, চাঁদ দুই টুকরা হওয়া, ইত্যাদি ইত্যাদি…। আমি সেসব প্রশ্নের জবাব দেব না। ওসব প্রশ্নের জবাব দিয়ে বহু বিতর্ক চারিদিকে ভেসে বেড়াচ্ছে। সেই চর্বিত চর্বনের কোনো ইচ্ছে আমার নেই। আমি পাঠকের সামনে ভিন্ন একটি দিগন্ত উন্মোচন করতে চাই, আর সেজন্যেই এই বইটি লেখা। প্রিয় পাঠক, যাদের মনে এখনও “কুরআন ও বিজ্ঞান” প্রশ্নটাই সবচে’ বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়ে ঝুলে আছে, তারা কুরআনের বিস্ময়কর বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক তথ্য দেখে স্তম্ভিত ও বোকা হয়ে বসে থাকুক, কিন্তু আপনি আসুন, আমরা নতুন দিগন্তে উঁকি দিই। কুরআনে আল্লাহপাক বলেন:


مَرَجَ الْبَحْرَيْنِ يَلْتَقِيَانِ (١٩) بَيْنَهُمَا بَرْزَخٌ لا يَبْغِيَانِ (٢٠) فَبِأَيِّ آلاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ (٢١) يَخْرُجُ مِنْهُمَا اللُّؤْلُؤُ وَالْمَرْجَانُ (٢٢) فَبِأَيِّ آلاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ (٢٣)

“তিনি পাশাপাশি দুই দরিয়া প্রবাহিত করেছেন; উভয়ের মাঝখানে রয়েছে এক অন্তরাল - যা তারা অতিক্রম করে না। … উভয় থেকেই উৎপন্ন হয় মুক্তা ও প্রবাল। অতএব, (হে মানুষ ও জিন প্রজাতি!) তোমরা তোমাদের রবের কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?” (সূরা আর রহমান, ৫৫:১৯-২০ ও ২২-২৩)

এবার একজন নাস্তিককে নিয়ে যান পদ্ম-মেঘনার মোহনায়। কিংবা তাকে নিয়ে যান পৃথিবীর সেইসব সমুদ্রের মিলনস্থলে, যেখানে কুরআনের এই আয়াতের প্রতিফলন দেখা যায়। তাকে স্তম্ভিত করে দিন! তাকে বলুন, হযরত মুহাম্মদ (সা.) যখন এই আয়াত নিয়ে আসেন, তখন আরবের কোনো মানুষের কাছেই এর খবর ছিল না‍! নিরপেক্ষ ও অপ্রভাবিত মনের একজন যুক্তিবাদী মানুষের পক্ষে কি এটুকুই যথেষ্ট নয় কুরআনকে পরম স্রষ্টার গ্রন্থ হিসেবে চিনে নেয়ার জন্য? উদারমনা হয়ে থাকলে নিশ্চয়ই কুরআনকে গ্রহণ করে নেবে সে তখন!

কিন্তু কুরআনে কি শুধু নওমুসলমিদের জন্যই বিস্ময় অপেক্ষা করছে, আমাদের জন্য নয়? এবার আসুন পাঠক, আপনি, আমি ও সেই নও মুসলিম, তিনজনে মিলেই স্তম্ভিত হয়ে যাই! কেননা, যেসময় ঐ আয়াত নাযিল হয়, সেসময় হযরত মুহাম্মদ (সা.) কিংবা আরবের কেউ-ই পদ্মা-মেঘনার মোহনা দেখেননি, কিংবা পৃথিবীতে এজাতীয় আরো যত জায়গা আছে, সেসব জায়গায় যাননি। কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা, আল্লাহ তায়ালা সূরা আর রহমানের ২২ নং আয়াতে বলছেন যে, “তাদের থেকে উৎপন্ন মুক্তা ও প্রবাল।” তাহলে এই আয়াত অনুযায়ী পদ্মা-মেঘনার মিলনস্থলে গেলে প্রচুর মণিমুক্তা পাওয়ার কথা! [QR - তাদের থেকে উৎপন্ন হয় মুক্তা ও প্রবাল।]


পৃথিবীর যেসব সাগরে এমন দুই রঙের পানি পাশাপাশি মিলিত হয়েছে, সেখানেও মুক্তাচাষের বিশাল ক্ষেত্র গড়ে ওঠার কথা। কিন্তু কই, কোথায় সেসব মুক্তা ও প্রবাল? কুরআনের আয়াত নিশ্চয়ই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নয়, তাহলে নিশ্চয়ই কেয়ামত পর্যন্ত পদ্মা-মেঘনার মোহনা থেকে মণিমুক্তা উঠতেই থাকবে! মুক্তাচাষীরা নিশ্চয়ই ঐসব জায়গায় মহা ব্যবসা খুলে বসবে?

কিন্তু বাস্তবে তো তেমনটা তো নয়। তাহলে কি কুরআনের ঐ আয়াত মিথ্যা? না। তা হতে পারে না। আর মুক্তা ও প্রবালকে আল্লাহপাকের অনস্বীকার্য নেয়ামত হিসেবে উল্লেখ করারই বা মানে কী?

প্রিয় পাঠক!

এই কুরআন আমাদেরকে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক তথ্য দিয়ে স্তম্ভিত করে, আবার অবৈজ্ঞানিক কথা দিয়ে কৌতুহলী করে তোলে। কেন, খোদা এমনসব কথা দিলেন এই কিতাবের মাঝে? যখনই দুই দরিয়ার মিলনস্থল আবিষ্কার করে বিস্মিত হব, তখনই আবার সেখানে মণিমুক্তা খুঁজে না পেয়ে স্তম্ভিত হয়ে যাব! এসব দেখে ক্লান্তমনা নাস্তিকেরা হয়ত কুরআনটাকেই ফেলে রেখে চলে যাবে। অপরদিকে বিতর্কের রেসলিং শোতে হাততালি পাওয়ার লোভে মত্ত মুসলিমেরা এসব আলোচনা এড়িয়ে ‘কুরআনে বিজ্ঞান’ প্রমাণের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়বে আবার। তারপর কোট মাইনিং করে নিজেদের সুবিধাজনক আয়াতগুলো সামনে এনে কুরআনকে ‘বিজ্ঞানসম্মত’ প্রমাণ করে আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তুলবে। বিপরীতক্রমে একই কাজ করবে নাস্তিকও: কোট মাইনিং করে সুবিধাজনক আয়াত তুলে এনে কুরআনকে ‘বিজ্ঞানবিরোধী’ প্রমাণ করে বিজয়ী হবে। কিন্তু, আপনি, প্রিয় পাঠক? আপনি কী করবেন?

বিজ্ঞানধর্মের এসব অন্ধ অনুসারীদেরকে তাদের খেলায় মত্ত থাকতে দিন। আপনি-আমি বরং চলুন কুরআনের রহস্য উন্মোচনের কৌতুহলী যাত্রাপথে এগিয়ে যাই।

_______________________________

কুরআন যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানকে মানদণ্ড ধরা যুক্তি ও দর্শনের অবমাননা।

বিজ্ঞান ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের বিতর্ক মুহাম্মদ (সা.) এর প্রচার পদ্ধতি নয়।

পাঠকের পক্ষপাতহীন, অপ্রভাবিত রায় আশা করছি

মন্তব্যসমূহ

সর্বাধিক জনপ্রিয়

স্রষ্টাভাবনা

প্রথম ভাগ: দার্শনিকের স্রষ্টাভাবনা | | পর্ব-১: উৎসের সন্ধানে উৎসের সন্ধান করা মানুষের জন্মগত বৈশিষ্ট্য। মানুষ তার আশেপাশের জিনিসের উৎস জানতে চায়। কোথাও পিঁপড়ার লাইন দেখলে সেই লাইন ধরে এগিয়ে গিয়ে পিঁপড়ার বাসা খুঁজে বের করে। নাকে সুঘ্রাণ ভেসে এলে তার উৎস খোঁজে। অপরিচিত কোনো উদ্ভিদ, প্রাণী কিংবা যেকোনো অচেনা জিনিস দেখলে চিন্তা করে – কোথা থেকে এলো? কোথাও কোনো সুন্দর আর্টওয়ার্ক দেখলে অচেনা শিল্পীর প্রশংসা করে। আকাশের বজ্রপাত, বৃষ্টি, রংধনু কিংবা সাগরতলের অচেনা জগৎ নিয়েও মানুষ চিন্তা করে। এমনকি ছোট শিশু, যে হয়তো কথাই বলতে শেখেনি, সে-ও কোনো শব্দ শুনলে তার উৎসের দিকে মাথা ঘুরায়। অর্থাৎ, মানুষ জন্মগতভাবেই কৌতুহলপ্রবণ।

একটা বাচ্চা জ্ঞান হবার পর চিন্তা করে – আমি কোথা থেকে এলাম? আরো বড় হবার পর চিন্তা করে – আমার মা কোথা থেকে এলো? এমনি করে একসময় ভাবে, পৃথিবীর প্রথম মা ও প্রথম বাবা, অর্থাৎ আদি পিতা-মাতা কিভাবে সৃষ্টি হয়েছিল? চারিদিকের গাছপালা, প্রকৃতি, পশুপাখি, গ্রহ-নক্ষত্র-মহাবিশ্ব – এগুলিরই বা সৃষ্টি হয়েছে কিভাবে? ইত্যাদি নানান প্রশ্ন উৎসুক মনে খেলে যায়।

তখনই শুরু হয় সমস্যা। নিরপেক্ষ মানব মনকে চার…

ব্যাকট্র্যাকিং | দার্শনিকের স্রষ্টাভাবনা

আগের পর্ব: উৎসের সন্ধানে | সূচীপত্র দেখুন


আদি পিতা-মাতাকে কে তৈরী করল? কোন সে পুতুল কারিগর? একজন ভাস্কর যেভাবে পাথর কুঁদে মানুষের মূর্তি তৈরী করেন, কিংবা মাটি দিয়ে তৈরী করেন পুতুল! এই প্রশ্নের উত্তর আমরা পাই ব্যাকট্র্যাকিং পদ্ধতিতে।
মানুষের ব্যাকট্র্যাকিং
আমাকে জন্ম দিয়েছেন (সৃষ্টি করেছেন) আমার মা। আর আমার মা-কে জন্ম দিয়েছেন আমার নানী, কিন্তু তাঁরও তো মা ছিল! আমরা যদি এভাবে পিছনের দিকে যেতে শুরু করি, তাহলে:
আমার মা, তার মা, তার মা… এভাবে করে একদম শুরুতে অবশ্যই এমন এক মা থাকতে হবে, যার আর কোনো মা নাই। সে-ই পৃথিবীর প্রথম মা। এই পদ্ধতিটাকে বলা হয় ব্যাকট্র্যাকিং (backtracking)। অর্থাৎ, কোনোকিছুর পিছনের কারণকে খুঁজে বের করা।
স্রষ্টার ব্যাকট্র্যাকিং
আচ্ছা, সেই আদি মাতার সৃষ্টি হলো কিভাবে? তার নিশ্চয়ই কোনো মাতৃগর্ভে জন্ম হয়নি, কারণ সে-ই তো প্রথম মা, আদি মাতা! অতএব, নিশ্চয়ই কোনো পুতুল কারিগর নিজ হাতে গড়েছিলেন মানবজাতির আদি মাতাকে! তো, সেই আদি মাতাকে যিনি সৃষ্টি করলেন, সেই স্রষ্টাকেই আমরা বলছি “মানুষের স্রষ্টা”।
এখন কেউ জিজ্ঞাসা করতে পারে, “মানুষের স্রষ্টাকে” সৃষ্টি করলো কে? তখন উত্তরে বলতে হয়: আচ্…

কুরআনের দর্শন | দার্শনিকের কুরআন যাত্রা

আগের পর্ব: সূরা ইখলাস ও নিরপেক্ষ মন | সূচীপত্র দেখুন

কুরআনের দর্শন (philosophy) কেমন? আসলে একটি ছোট লেখায় কখনোই গোটা কুরআনের দর্শন পুরোপুরি তুলে ধরা সম্ভব না। কুরআনের যেকোনো ছাত্র একবাক্যে স্বীকার করবে যে, মৃত্যু পর্যন্ত একজন ছাত্রের “কুরআন যাত্রা” শেষ হয় না। তাই “কুরআনের দর্শন” শিরোনামের যেকোনো লেখাই অসম্পূর্ণ। এই লেখাও তার ব্যতিক্রম নয়। তবুও আমাদের আলোচনার সাথে প্রাসঙ্গিক কিছু বিষয়ে কুরআনের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার চেষ্টা করলাম।

অপরের বক্তব্য শুনতে হবে


فَبَشِّرْ عِبَادِي (١٧) الَّذِينَ يَسْتَمِعُونَ الْقَوْلَ فَيَتَّبِعُونَ أَحْسَنَهُ أُولَئِكَ الَّذِينَ هَدَاهُمُ اللَّهُ وَأُولَئِكَ هُمْ أُولُو الألْبَابِ (١٨)

“অতএব, (হে রাসূল!) সেই বান্দাদের সুসংবাদ দিন যারা বক্তব্য শোনে, অতঃপর তার মধ্য থেকে যা কিছু অধিকতর উত্তম তার অনুসরণ করে। এরাই হচ্ছে তারা যাদেরকে আল্লাহ সঠিক পথ দেখিয়েছেন এবং এরাই হচ্ছে প্রকৃত জ্ঞানবান।” (সূরা যুমার, ৩৯:১৭-১৮)

অর্থাৎ, কুরআনের দর্শন হলো মুক্ত আলোচনার দর্শন। সবার মতামত শুনতে হবে, তারপর সেগুলি যাচাই করতে হবে। যুক্তিবুদ্ধির মানদণ্ডে যেগুলি উত্তম বলে বিবেচিত হবে, সেগ…